চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে বিভিন্ন জ্বালানিবোঝাই জাহাজ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে বিশ^ব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন সংকটসহ নানা স্পর্শকাতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গেল কয়েকদিন যাবৎ বাংলাদেশেও জ্বালালি সংকট সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কায় রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের ব্যাপক ভিড় ও দীর্ঘ অপেক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারপক্ষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) দফায় দফায় জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মজুত সন্তোষজনক এবং আমদানি প্রক্রিয়ায়ও কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানিয়েছে, সোমবার কাতার থেকে ৬২ হাজার ৯৮৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘লুসাইল’ নামের একটি জাহাজ বহির্নোঙ্গরে ভিড়েছে। এর আগে ৮ মার্চ ওমান থেকে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এলপিজি সেভান’ নামের একটি জাহাজ ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি নিয়ে বহির্নোঙ্গরে ভিড়েছে। আরও আগে গত ৩ মার্চ ৬৩ হাজার ৩৮৩ টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ এবং ৫ মার্চ ৬৩ হাজার ৭৫ টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জাসাসিয়া’ নামের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। দুটি জাহাজই এসেছে কাতার থেকে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ওমান থেকে ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে একটি জাহাজ এবং গত ৫ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫ হাজার ১৯ টন এমইজি (মেরিন ইথানল গ্যাস) নিয়ে দুটি জাহাজ বন্দরে ভিড়ে। কাল বুধবার ৫৭ হাজার ৬৬৫ টন এলএনজি নিয়ে একটি জাহাজ এবং ১৪ মার্চ ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আরেকটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, জ্বালানিবাহী যেসব জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ইতোমধ্যে বন্দরে এসে পৌঁছেছে আর যেগুলো সহসা পৌঁছবে সবগুলোই গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে এসেছে।
বিপিসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের আমদানি ও সাপ্লাই চেইনে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। ফলে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত জাহাজসমূহের বাঙ্কারিং ও জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে তুলনামূলকভাবে কম।
বিপিসি আরও জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিয়মিত আগমন অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলএনজি ও এলপিজিসহ ১৪টি জাহাজ বহির্নোঙরে আবস্থান করছে। এসব জাহাজ এসেছে কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়া থেকেও ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজ নিয়মিত বাড়ছে। ফলে দেশে বর্তমানে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকট নেই।
প্যানেল হু








