ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

কর্মস্থলে নেই ৯ ডাক্তার ভোগান্তিতে ৫ লাখ মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা

প্রকাশিত: ২২:৩০, ৭ মার্চ ২০২৬

কর্মস্থলে নেই ৯ ডাক্তার ভোগান্তিতে ৫ লাখ মানুষ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জোড্ডার গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতাল এবং ২টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৯ জন চিকিৎসক বছরের পর বছর নিজ কর্মস্থলে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সংযুক্তি রয়েছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ। এ সব ডাক্তাররা  মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, নিটোর আইসিইউ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে সংযুক্ত থাকায় নাঙ্গলকোটবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এর মধ্যে ২ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ঢাকার নিটোর আইসিইউ বিভাগ এবং সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  সংযুক্ত  থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবতী মহিলাদের সিজারিয়ান অপারেশনসহ ছোট-খাটো অপারেশন কার্যত বন্ধ রয়েছে।  
বিশেষ করে তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা. পারিজা তুন নুর পারিজাত প্রায় ৫বছর থেকে থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন হাসপাতালে এবং দৌলখাঁড় ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার ডা. জান্নাতুল মাওয়া এক বছর থেকে কুমিল্লা মেডিক্যল কলেজ হাসপাতালে সংযুক্ত থাকায় তৃণমূল এলাকাবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ৃনাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা সিভিল সার্জন বরাবরে উপজেলায় চিকিৎসক সংকটে  চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সংযুক্তি আদেশ বাতিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছেন।
সংযুক্ত চিকিৎসকরা হলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল  অফিসার ডা. সিফাত আরেফিন।  ২০২০ সালের ৮ জুলাই থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালীতে সংযুক্তিতে কর্মরত আছেন। দৌলখাঁড় ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা. জান্নাতুল মাওয়া। তিনি ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সংযুক্ত আছেন। বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের  মেডিক্যাল অফিসার ডা. পারিজা তুন নুর পারিজাত। তিনি ২০২১ সালের ৫ মে থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন হাসপাতালে সংযুক্ত আছেন। জোড্ডার গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. তাহমিনা চৌধুরী। তিনি ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসি আর শাখায় সংযুক্ত আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. নুর উদ্দিন খন্দকার।

তিনি ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে মাহখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা শাখা সংযুক্ত আছেন। জোড্ডার গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট  (মেডিসিন) ডা. মো. মহিউদ্দিন। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সংযুক্ত আছেন। জোড্ডার গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. টি এম ফাহাদ নাছিফ। তিনি ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে ঢাকার নিটোর আইসিইউ বিভাগে সংয্ক্তু আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. মো. আকতার হোসেন। তিনি ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের   মেডিক্যাল অফিসার ডা. কামরুন নাহার মুনিয়া। তিনি ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে সংযুক্ত আছেন।
বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা দৌলতপুর গ্রামের ছালেহা বেগম বলেন, বাঙ্গড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিক্যাল অফিসার থাকার কথা শুনলেও কখনো এখানে মেডিক্যাল অফিসারকে বসতে দেখিনি। ডাক্তার থাকলেও অন্য হাসাপাতালে সংযুক্ত থাকায় এলাকাবাসী ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভবতী মহিলা আফসানা আক্তার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের ব্যবস্থা থাকলেও অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার না থাকায় বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে সরকারি হাসপাতালে আসা গরীব গর্ভবতী মহিলারা সিজারিয়ান অপারেশনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন, ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতাল এবং দু’টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  কর্মরত চিকিৎসকরা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সংযুক্ত থাকায় এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা বিঘিœত হচ্ছে। তাই তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছি।

প্যানেল হু

×