ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

দেবীগঞ্জে পৌর উন্নয়নের বরাদ্দে ইউএনও’র বাগানে ওয়াকওয়ে নির্মাণ

তাসনিম আলম, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়

প্রকাশিত: ১৬:০৩, ৬ মার্চ ২০২৬

দেবীগঞ্জে পৌর উন্নয়নের বরাদ্দে ইউএনও’র বাগানে ওয়াকওয়ে নির্মাণ

ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভায় উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবন সংলগ্ন বাগানে ওয়াকওয়ে নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এডিবি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রায় ৫ লাখ টাকার এই প্রকল্প ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে ৫ লাখ ৫ হাজার ৫০৬ টাকা বরাদ্দে ‘উপজেলা বাগানে ওয়াকওয়ে নির্মাণ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির আওতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবন সংলগ্ন বাগান এলাকায় সিমেন্টের ব্লক বসিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, কাজটি গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সম্পন্ন হওয়ার পর পৌরসভার পক্ষ থেকে বুঝিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে দেবীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। প্রকল্পটি তার অনুমোদনেই গৃহীত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে প্রকল্পটির অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক পৌরবাসী। তাদের অভিযোগ, ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবন সংলগ্ন বাগান এলাকায়, যা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়।

মাসুদ পারভেজ নামে পৌরসভার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বরাদ্দের পরিমাণ কম হলেও পৌর এলাকার ভাঙা সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কিংবা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কোনো স্থানে উন্নয়নমূলক কাজে এ অর্থ ব্যয় করা যেত। এর পরিবর্তে প্রশাসনিক বাসভবনের বাগানে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করায় জনস্বার্থ কতটা নিশ্চিত হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) দেবীগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওয়াসিম আকরাম বলেন, পৌরসভার উন্নয়ন বরাদ্দ এমন খাতে ব্যয় করা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হয় এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। জনগণের করের অর্থ দিয়ে পরিচালিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোনো প্রশাসনিক বাসভবনের অভ্যন্তরীণ এলাকায় উন্নয়ন কাজ করা হলে তা জনস্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ-সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবশ্যই গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদুল হাসান বলেন, এটা কী আমার ব্যক্তিগত বাসা নাকি? এটা তো উপজেলা পরিষদের। যারা অভিযোগ করেছে তাদের জিজ্ঞেস করেন আমি কী উপজেলা পরিষদ নিজের নামে লিখে নিয়েছি নাকি?

উল্লেখ্য, এর আগে সরকারি অফিসে টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও বিশেষ বিবেচনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের জন্য কম্পিউটার ও প্রিন্টার কেনার উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ওই প্রকল্প বাতিল করে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

এম.কে

×