পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় প্রিন্সিপাল মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় ডাকাত দলের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নুরুল্লাহর প্রতিবেশী মো. আলমকে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর থানায় দায়ের করা মামলা নং–২৮, তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুযায়ী, রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটের দিকে একদল সশস্ত্র ডাকাত প্রিন্সিপাল মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা ওয়ারড্রোব, স্যুটকেস ও ড্রেসিং টেবিলে রাখা প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (মূল্য আনুমানিক ২০ লাখ টাকা), নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর পঞ্চগড় জেলা পুলিশের নির্দেশনায় ডিবির একটি দল প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। পরে ৪ মার্চ দিবাগত রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আব্দুর রহমান (৩৫), মো. রমজান আলী (৩০), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩০), মো. আশিক (১৯) ও মো. জুবায়ের (১৯) নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লুণ্ঠিত একটি স্মার্টফোন, একটি সিমকার্ড এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত শাবল, ছুরি ও বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ৫ মার্চ রাত ১টা ৩৫ মিনিটে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী মো. আলম (৩৭) কে পঞ্চগড় সদর উপজেলার জিয়াবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মো. আলম প্রিন্সিপাল নুরুল্লাহর প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিলেন। তিনি নুরুল্লাহর কাছে জমি বর্গা চেয়েও না পেয়ে ক্ষোভ পোষণ করছিলেন। নুরুল্লাহ হজে যাওয়ার সময় তার বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন আলম। পরে কামরুল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে একটি ডাকাত দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করেন।
ঘটনার রাতে ডাকাতরা বাড়ির পশ্চিম পাশের গ্রিলবিহীন জানালা সাবল দিয়ে ভেঙে ঘরে ঢোকে। কয়েকটি কক্ষ তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে শেষ পর্যন্ত যে কক্ষে নুরুল্লাহর স্ত্রী, সন্তান ও শাশুড়ি ঘুমিয়ে ছিলেন সেখানে প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে।
এ সময় বড় শিশু ঘুম থেকে উঠে কান্না শুরু করলে ডাকাত দলের এক সদস্য তার গলায় ছুরি ধরে ভয় দেখায়। পরে শিশুটির কান্না থামাতে আলম নুরুল্লাহর স্ত্রীর ব্যাগ থেকে একটি কেক বের করে শিশুটিকে দেয় এবং তাকে পানি খাওয়ায়। এরপর ডাকাতরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে তারা সাদ্দামের বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে জড়ো হয়ে লুট করা প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। স্বর্ণালঙ্কারের কিছু অংশ বিক্রির জন্য দলের অন্য সদস্যদের কাছে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ডাকাত দলটি একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্র এবং পঞ্চগড়সহ জগদল এলাকায় একাধিক ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামি কামরুল ও মনিরকে গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ.এইচ








