ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

ছুরিকাঘাতে শিক্ষিকাকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা কর্মচারীর

ইবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০০:৫১, ৫ মার্চ ২০২৬

ছুরিকাঘাতে শিক্ষিকাকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা কর্মচারীর

আসমা সাদিয়া রুনা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টারত অবস্থায় দেখেন ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। 
জানা যায়, বিভাগটির আয়োজনে বুধবার ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পাশেই ফজলুরকে নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।  
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাগ্বিত-া হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহির্প্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, শোনা মাত্রই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এ সময় একজনের নিথর দেহ ও অন্য একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি, কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুইজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। 
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া, তার হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি ছিল।

প্যানেল হু

×