ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

যুদ্ধের গুঞ্জনে তেল সংকটের আশঙ্কায়: মেহেরপুরে পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

তৌহিদুল ইসলাম তুহিন মেহেরপুর

প্রকাশিত: ২০:০৫, ৪ মার্চ ২০২৬; আপডেট: ২০:০৬, ৪ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধের গুঞ্জনে তেল সংকটের আশঙ্কায়: মেহেরপুরে পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় মেহেরপুর জেলা জুড়ে তেল পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক ভিড়। বুধবার রাত থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর এলাকায় সহ মেহেরপুর সদরে কয়েকটি পাম্পে ছিল উপচে পড়া মানুষের ভিড়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল সংকটের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অনেকেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহে পাম্পে ভিড় করছেন। কেউ কেউ একাধিক জেরিক্যান নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে শহরের কাথুলি বাস স্ট্যান্ড অবস্থিত পাম্প মালিক রেজানুল রহমান বিশ্বাস  জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিতভাবেই তেল সরবরাহ চলছে এবং এখন পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে তারা সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি

এদিকে  যানবাহন চালক খোকন শেখ জানান, ভবিষ্যতে তেল না পাওয়ার শঙ্কা থেকেই তারা আগে থেকেই ট্যাংক ভরে রাখছেন। 

মোটরসাইকেল চালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “যদি হঠাৎ করে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হবে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে আগে থেকেই তেল নিচ্ছি।”

এদিকে  সচেতন মহলের মতে, গুজব ও অযাচিত আতঙ্কই বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি 

এদিকে মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে  জানিয়েছেন, কেউ যাতে অতিরিক্ত মজুত বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গুজবের প্রভাবে সৃষ্ট আতঙ্কই বর্তমানে তেল পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জনসচেতনতা ও প্রশাসনিক তৎপরতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

রাজু

×