ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

পাতার ফাঁকে ফাঁকে আমের গুটি, কলারোয়ায় বাম্পার ফলনের আশা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলারোয়া, সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ১০:৫৫, ৩ মার্চ ২০২৬

পাতার ফাঁকে ফাঁকে আমের গুটি, কলারোয়ায় বাম্পার ফলনের আশা

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সারি সারি আমগাছ আর বাগানের পর বাগানজুড়ে এখন শুধু মুকুলের সমারোহ। পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে ছোট ছোট আমের গুটি। আমবাগানের মৌ মৌ গন্ধে মন জুড়াচ্ছে বাগানমালিক ও আমচাষিদের। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দুই সপ্তাহ আগেই গাছে এসেছে মুকুল। ফলে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কলারোয়ায় ৬৫৮ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ১৮৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতভিত্তিক চাষের মধ্যে হিমসাগর ৩৩০ হেক্টর, ল্যাংড়া ১০৪ হেক্টর, আম্রপালি ১৫৬ হেক্টর, গোপালভোগ ৫২ হেক্টর এবং অন্যান্য জাত ১৬ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

কৃষি অফিস জানায়, এবার ‘অন ইয়ার’ বা বেশি ফলনের বছর হওয়ায় প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। গড়ে প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল দেখা গেছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেক গাছে গুটি ধরেছে। কুয়াশা কম থাকায় মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক হারে মুকুল এসেছে।

গাছে থাকা মুকুল যাতে ঝরে না পড়ে, সে জন্য কীটনাশক স্প্রে, সেচসহ বিভিন্ন পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের আমচাষি জাকির হোসেন জানান, “এবার গাছের অবস্থা বেশ ভালো। আমরা নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ করছি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করছি। মুকুলের পরিমাণ দেখে মনে হচ্ছে ফলন সন্তোষজনক হবে। আবহাওয়া সহায়ক থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে।”

আরেক আমচাষি মসিয়ার রহমান বলেন, “এ বছর এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে এবং দ্রুত গুটি বের হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বেশির ভাগ গাছে গুটি দেখা যাবে। আশা করছি বাম্পার ফলন হবে। তবে বেশি ফলন হলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।”

কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস. এম. এনামুল ইসলাম বলেন, “যারা নিয়মিত পরিচর্যা করেছেন, তাদের গাছে মুকুল বেশি এসেছে এবং তা টিকেও আছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারব্যবস্থা ও সংরক্ষণ সুবিধা জোরদার করা গেলে এ বছর কলারোয়ার আমচাষিদের মুখে হাসি ফুটবে।

নোভা

×