ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।
বসন্ত এলেই প্রকৃতি যেন নতুন করে সেজে ওঠে। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে রঙের উৎসব। আর সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান সৌন্দর্য লাল টুকটুকে পলাশ ফুল। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, গাছের শাখা-প্রশাখায় যেন আগুন জ্বলছে।
বাংলার ছয় ঋতুর প্রতিটিই প্রকৃতিকে আলাদা রূপে সাজায়। গ্রীষ্মে সোনালুর হলুদ ফুল ঝরে পড়ে সোনালি বৃষ্টির মতো, বর্ষায় জারুলের বেগুনি আভা ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে, শীতে কাঞ্চনের স্নিগ্ধতা আর বসন্তে পলাশের আগুনরাঙা সৌন্দর্য প্রকৃতিকে করে তোলে অনন্য।
পলাশ ফুল সাধারণত তিনটি রঙে দেখা যায়-হলুদ, লাল এবং লালচে কমলা। তবে লালচে কমলার আগুনরাঙা পলাশই সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে গাছ ভরে ওঠে এই দৃষ্টিনন্দন ফুলে।
ফুল ফোটার সময় পলাশ গাছ প্রায় পাতাশূন্য থাকে। ফলে সবুজ পাতার আড়াল ছাড়াই গাছজুড়ে ফুটে থাকা লাল ফুলগুলো দূর থেকেই চোখে পড়ে। বসন্তের হাওয়ায় দুলতে থাকা পলাশ ফুল যেন প্রকৃতির বুকে আগুনের শিখা হয়ে জ্বলতে থাকে।
সকাল কিংবা বিকেলের নরম আলোয় পলাশের সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। পথ চলতে চলতে অনেকেই হঠাৎ থমকে দাঁড়ান এই দৃশ্য দেখে। কেউ মোবাইল ফোনে বন্দি করেন বসন্তের এই রূপ, আবার কেউ সকালে ঝরে পড়া পলাশ ফুল কুড়িয়ে নেন ভালো লাগার স্মৃতি হিসেবে।
রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পলাশের রং যেন আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। দূর থেকে তাকালে মনে হয় সবুজের ভেতর জ্বলছে আগুনের লাল শিখা। তাই পলাশকে অনেকেই বলেন "বসন্তের আগুন"।
প্রতি বছর ফাল্গুনের আগমনে আগুনরাঙা পলাশ যেন প্রকৃতিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলে। এই ফুল মনে করিয়ে দেয়- বসন্ত এসেছে, প্রকৃতি এখন রঙিন আবেশে ভরপুর।
এম.কে








