ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রাণের ঝুঁকি! হাসপাতালে বিমের পলেস্তারা ধস

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী, বরগুনা

প্রকাশিত: ১৫:৪৯, ১ মার্চ ২০২৬

চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রাণের ঝুঁকি! হাসপাতালে বিমের পলেস্তারা ধস

ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনের বিমের পলেস্তারা ধসে পড়েছে। এতে হাসপাতালের অর্ধশতাধিক রোগী আতঙ্কে হাসপাতাল ত্যাগ করে বাহিরে রাত কাটিয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে শনিবার রাতে।

জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে স্বাস্থ্য বিভাগ আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করে। গত ৩৭ বছর ধরে ওই ভবনেই রোগীদের চিকিৎসাসহ সকল কার্যক্রম চলে আসছে। শুক্রবার ভূমিকম্পে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে। শনিবার রাতে হাসপাতালের দোতলায় একটি বিম ভেঙে পলেস্তারা রোগীর গায়ে পড়ে যায়। এতে হাসপাতালে বেডে থাকা অর্ধ শতাধিক রোগীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও রোগীর স্বজনরা দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে বাহিরে সরে যায়। ওই রাতে রোগীরা আর হাসপাতালের বেডে ফিরে আসেনি। রাতে তারা হাসপাতালের বাহিরে রাত কাটিয়েছেন।

খেকুয়ানী গ্রামের বাসিন্দা শিশু ওয়ার্ডে থাকা রোগী তানিয়া আক্তার বলেন, হাসপাতালের বিম ধসে পরার খবর পেয়ে রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকল রোগী বেড ছেড়ে বাহিরে চলে যায়। এরপর সারা রাতে রোগীরা ফিরে আসেনি। তিনি আরো বলেন, আমিও আমার বাচ্চা নিয়ে বাহিরে রাত কাটিয়েছি।

ছোট নীলগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রোগী মোর্শ্বেদা বলেন, রাতে চর চর করে ভবন ভেঙে পরতে দেখে আমি দৌড়ে বাহিরে নেমে যাই। আর হাসপাতালের রোগীরাও মেনে যায়। ওই রাতে আর কেউ ফিরে আসেনি।

রোগী স্বজন মোঃ শাহীন বলেন, রাতে হাসপাতালের সকল রোগী আতঙ্কে বেড ছেলে বাহিরে নেমে গেছেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ওয়ার্ড ইনচার্জ মোসাঃ মোর্শ্বেদা  বেগম বলেন, ভবনের ফাটা অংশ ভেঙে রোগীর গায়ে পড়েছে। আতঙ্কে শিশু ওয়ার্ডের রোগীসহ সকল রোগী দৌড়ে বাহিরে বের হয়ে গেছে। এ বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার বলেন, ভূমিকম্পে পুরাতন ভবনের অনেক স্থানে ফাটল ধরেছে। গতকাল রাতে দোতলায় বিম ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি বরগুনা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হয়েছে।

বরগুনা সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, বিষয়টি জেনেছি। ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতাল ভবন সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ডিপিপি পাশ হলে দ্রুতই সংস্কার করা হবে।

এম.কে

×