ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

ফেনীতে অটোরিকশার রাজত্ব তীব্র যানজটে স্থবির জনজীবন, বিপাকে ব্যবসায়ী ও রোজাদাররা

জসিম ফরায়েজী ফেনী 

প্রকাশিত: ২১:০৫, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; আপডেট: ২১:০৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফেনীতে অটোরিকশার রাজত্ব তীব্র যানজটে স্থবির জনজীবন, বিপাকে ব্যবসায়ী ও রোজাদাররা

পবিত্র মাহে রমজানে ফেনী শহরে ভয়াবহ যানজট দেখা দিয়েছে। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল এবং ট্রাফিক অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে মহিপাল ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকায় যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা এবং রাস্তা ব্লক করে গাড়ি রাখার ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

​সরেজমিনে দেখা যায়, ফেনী থেকে ছেড়ে আসা সিএনজি গাড়িগুলো মহিপাল ফ্লাইওভার পার হওয়ার সময় নির্দিষ্ট স্থান ছাড়াই যাত্রী উঠানামা করছে। এই সুযোগে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাগুলো রাস্তার মুখ আগলে দাঁড়িয়ে থাকছে। এতে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজট লেগে থাকছে এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মনিরা হক স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা কোনোভাবেই মেইন রোডে আসতে পারবে না। এরপর ট্রাফিক পুলিশ মাত্র দুই দিন লোক দেখানো অভিযান চালিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্তমানে শহরের প্রতিটি মোড়ে শত শত অটোরিকশা রাজত্ব করছে।

​শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খুরশিদ আলম বলেন, ​রমজানের বাজারে কাস্টমাররা দোকানে আসতে নারাজ যানজটের কারণে। ব্যাটারি চালিত রিকশাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ সিএনজি চলাচলের অনুমতি দিলেই এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

​পথচারী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে শহরে কোনো শৃঙ্খলা নেই। আগে অটোরিকশাগুলো মেইন রোডে আসার সাহস পেত না, এখন হাজারো গাড়ি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলছে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নির্দিষ্ট পার্কিং জোন নির্ধারণ এবং রাস্তার সক্ষমতা অনুযায়ী গাড়ির সংখ্যা সীমিত না করলে এই সংকট আরও বাড়বে। রমজানের এই সময়ে জনভোগান্তি কমাতে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ফেনীবাসী। 

রাজু

×