ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২

বান্দরবানে শান্তিচুক্তি বাতিল’সহ ৭ দফা দাবিতে নাগরিক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান

প্রকাশিত: ১৫:২৯, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; আপডেট: ১৫:৩০, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বান্দরবানে শান্তিচুক্তি বাতিল’সহ ৭ দফা দাবিতে নাগরিক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মোঃ মজিবর রহমান।

বান্দরবানে শান্তি চুক্তি বাতিল, নির্বাচনের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাঙ্গালীদের অংশগ্রহণ ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করা'সহ ৭ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারী) বেলা ১১টায় বান্দরবান সদরের রি স্বং স্বং রেস্তোরার  সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সকল জাতী গোষ্ঠীর উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচন করে দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং ৩৭ বছর ধরে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ শাসন ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে অনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্বারা। ফলে জেলা পরিষদ গুলো হয়ে উঠেছে দুর্নীতির আখড়া। নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় পরিষদে জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বেড়েছে এবং সুষম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে সরকার মনোনীত অন্তর্বর্তী পরিষদের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে এসব জেলা পরিষদের কার্যক্রম। এছাড়া আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ সৃষ্টির পর হতেই এসকল প্রতিষ্ঠানের ‘চেয়ারম্যান' পদটি উপজাতীয়দের জন্য নির্ধারিত বিধায় বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী হতে কখনোই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারবে না। এমন অসাংবিধানিক সিদ্ধান্তের ফলে বাঙ্গালীদের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও বৈষম্য করা হয়েছে এবং সাংবিধানিকভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। সুতরাং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ গুলোতে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ‘চেয়ারম্যান' নির্বাচিত করা এবং বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী হতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে বা শূণ্যতায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য ‘ভাইস চেয়ারম্যান' পদ সৃষ্টি করা এবং সেখানেও বাঙ্গালীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার দাবি জানানো হয়।

এসময় তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে একাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ, যেমন- জেএসএস (মূল), জেএসএস (এমএন লারমা), ইউপিডিএফ (মূল), ইউপিডিএফ (গতান্ত্রিক), ইউপিডিএফ (সংস্কার), এমএলপি (মগ লিবারেশন পার্টি), কুকি-চিন বা কেএনএফ (কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) ইত্যাদি। এ সংগঠনগুলোর কারণে  প্রতিনিয়ত খুনের শিকার ও গুলিবিদ্ধ হচ্ছে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও সাধারণ মানুষ। ফলে এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদ গঠন, আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাঙ্গালীদের অংশগ্রহণ ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করা, প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুন:স্থাপন , নিরাপত্তার স্বার্থে ১০৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, সেনাক্যাম্প গুলোতে পুলিশের পরিবর্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ ও শান্তি চুক্তি বাতিলের জোর দাবী জানান তিনি। 

রাজু

×