ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

‘রমজান মাসে ক্যারাম-টিভি চলবে না’, বাজারে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশ

সাগর হোসেন, কুষ্টিয়া

প্রকাশিত: ১৪:৫৭, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; আপডেট: ১৪:৫৭, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘রমজান মাসে ক্যারাম-টিভি চলবে না’, বাজারে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত।

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি বাজারে রমজান মাসে ক্যারাম খেলা ও টেলিভিশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজার পরিদর্শনে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আওতাধীন পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম। তিনি সেদিন সাদাপোশাকে ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক চা দোকানে ক্যারাম খেলা চলতে দেখে দোকানির দিকে আঙুল তুলে কথা বলেন মসিউল আজম। তিনি বলেন, ওই যে ক্যারাম খেলতেছে। আমি বন্ধ করে দিছি কিনা? কেন চলল? দেব বসান? আমি সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গেছি না, তারাবির একমাস কোনো ক্যারাম, কোনো টিভি চলবে না। কেন চলল? এ সময় তাঁকে ক্যারাম বোর্ডের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।

ভিডিওতে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, রমজান মাস, ইবাদতের মাস। যাই করবেন, নামাজের সময় যেন এইসব না করেন।

ঘটনার পরদিন রাত আটটার দিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। কিছু দোকান আংশিক খোলা রাখা হয়েছে। বাজারের এক প্রান্তে একটি চায়ের দোকান খোলা ছিল। সেখানে টেলিভিশন চললেও ক্যারাম খেলা বন্ধ ছিল।

ওই দোকানের চা বিক্রেতা কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে তিনি বলেন, আমার এখানে এই কয়ডা লোকই বসে। তারা একটু টিভি দেখেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য কাশেম বলেন, হঠাৎ এসব বন্ধ করে দেওয়া ঠিক না। তরুণদের বিনোদন-খেলাধুলার দরকার আছে। আমাদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও মাঝে মধ্যে খেলতে আসেন। তবে টাকা দিয়ে ক্যারাম খেলা ভালো না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মসিউল আজম বলেন, এটা ইসলামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। আমি কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিইনি। তিনি দাবি করেন, ওপর মহলের নির্দেশেই তিনি এ কথা বলেছেন।

তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, ওই কর্মকর্তাকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিন বলেন, এটা কোনো পুলিশি নির্দেশনা না। রোজার দিনে চায়ের দোকান খোলা থাকবে কি না, সেটা আইনগত বিষয় নয়। মানুষের অনুভূতির বিষয়। এ জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়ার প্রশ্ন আসে না।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ বিষয়টিকে ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি সম্মান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন তুলছেন।

এম.কে

×