ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ 

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮:৪৫, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ 

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারী ও তাঁর গর্ভবতী কন্যার ওপর হামলা, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। 

অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। 

এ ঘটনায় স্থানীয় ওই বিএনপি নেতাসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।

অভিযোগের অভিযুক্তরা হলেন মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৮), মোঃ আজিজুর সরকার (৫০), মোঃ আবু কালাম (৩৫), মোঃ জনি চৌধুরী (৩৮), মোছাঃ শাপলা বেগম (৩০) ও মোছাঃ সালেহা বেগম (৫৫)। তারা সবাই  ক্ষেতলাল উপজেলার রামপুরা গ্রামের  বাসিন্দা। 

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ভোগদখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এক আসামি ভুক্তভোগীর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং এ সময় তাঁর কানে থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের সোনার দুল (মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর গর্ভবতী কন্যা মোছাঃ সাবরিন সিফা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং গর্ভস্থ সন্তানের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর গলায় থাকা এক ভরি ওজনের সোনার চেইন (মূল্য আনুমানিক ২ লাখ ১০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত মা ও কন্যাকে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কন্যার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জয়পুরহাট সদর হাসপাতাল-এ রেফার্ড করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, জমি জমা নিয়ে ওই মহিলার সাথে একটু ঝামেলা হয়েছে কিন্তু আমি বা আমার কোনো লোকজন তাঁকে আঘাত করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিক বলেন, ঘটনাটি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়া হবে। 
 

নোভা

×