দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে অবসরের পর রাজনীতির মঞ্চে এসে প্রথম পরীক্ষাতেই বাজিমাত করলেন আব্দুল বারী। মাঠের রাজনীতিতে নতুন হলেও সংগঠন ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে অল্প সময়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর এমপি প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫ ভোট পান আব্দুল বারী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত রাশেদুল আলম সবুজ পান ৯২ হাজার ৫১৭ ভোট। প্রায় ৬৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থানের বার্তা দেন সাবেক এই প্রশাসনের কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে প্রথম ধাপে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)এ এম এম নাসির উদ্দিন। এ সময় জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন আব্দুল বারী।
শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রিসভায় জায়গা পান তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান। সেখানেই আব্দুল বারী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার আলোকে এ দায়িত্বকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আব্দুল বারী দীর্ঘ সময় প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের পর সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন তিনি। মাঠ প্রশাসন থেকে নীতিনির্ধারণী পর্যায় উভয় ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘ডিসি বারী’ হিসেবে।
রাজনীতিতে তাঁর এই অভিষেক কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং প্রশাসন থেকে রাজনীতিতে আসা একজন পেশাদার কর্মকর্তার দ্রুত গ্রহণযোগ্যতার দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রথম নির্বাচনে জয়, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ এবং একই দিনে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সব মিলিয়ে আব্দুল বারীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্য দিয়ে।
রাজু








