ছবি: জনকণ্ঠ
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার চরআব্দুল্লাহ গ্রামে বিজয়ী ধানের শীষ সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের সমর্থক জসিম উদ্দিন (৩০) নিহত এবং তার বড় ভাই মসিউর নায়েব ও পিতা মাফিক নায়েব আহত হয়েছেন। পৃথক ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহত মসিউর নায়েব অভিযোগ করেন- ধানের শীষের সমর্থক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাকিল দেওয়ানের নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেলে বাড়িতে ঢুকে নির্মমভাবে পেটায়, এই সময় তার পিতা ও ভাইকের বেদম প্রহার করে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে জসিমের মৃত্যু হয়। জসিম উদ্দিন ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। অভিযুক্ত শাকিল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
পুলিশ জানায়, জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন ফুটবল প্রতীকের সমর্থক ছিলেন। ওই গ্রামের ধানের শীষের সমর্থক শাকিল শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে ৫০-৬০ জনের একটি দল জসিমের বাড়িতে যায়। তারা জসিম উদ্দিন, তার বাবা মাফিক নায়েব, ভাই মোখলেস নায়েব ও মহসিন নায়েবকে পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর অবস্থায় দুই ভাই জসিম ও মোখলেস এবং বাবা মাফিক নায়েবকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জসিম মারা যান। নিহত জসিমের বড় ভাই মসিউর নায়েব আরও বলেন, ‘আমরা ফুটবল প্রতীকের নির্বাচন করেছিলাম। এটাই আমাদের একমাত্র দোষ ছিল। আমরা কখনও কারও সঙ্গে কোনও অন্যায় করিনি। কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতাও ছিল না। নাসির ডাক্তার ও তার ছেলে শাকিলরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।’
এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাকিল বলেন, ‘সকালে জসিম উদ্দিনদের লোকজন আমাদের সমর্থকদের ওপর হামলা করে। পরে আমি এ ঘটনায় অভিযোগ করতে থানায় যাই। তখন জসিম ও তার লোকজন এলাকা থেকে বের হয়ে যেতে পুনরায় আক্রমণের প্রস্তুতি নেন। পরে এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে জসিমদের মারধর করেছে। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।’
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, পূর্ববিরোধ এবং নির্বাচনি দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা। অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এদিকে এই ঘটনা ছাড়াও আসনটির মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আরও ১০ জন আহত হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন বিজয়ী হয়েছে মন। দলের মনোনয়ন না পেয়ে ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন। প্রার্থী হওয়ার কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
শহীদ








