খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সংসদ প্রার্থীরা। তারা নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আ. মালেক মিন্টু। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ওয়াদুদ ভুইঁয়া।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অতীতের একাধিক জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে খাগড়াছড়িসহ সারাদেশে ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে ভোটের দিন ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না এ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খাগড়াছড়ি আসনের মোট ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৬৮টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ (রেডমার্ক)’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসা এই তথ্য ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পাহাড়ি অঞ্চলের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট আদায়ের উদ্দেশ্যে সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কোথাও কোথাও সহিংস ঘটনার পাশাপাশি প্রার্থীদের প্রচারণা কার্যক্রমেও বাঁধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
তাদের বক্তব্যে আরও বলা হয়, দুর্গম পাহাড়ি ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্তবর্তী ঝুঁকি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো এবং স্থানীয় প্রশাসন ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা হতে পারে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও আনসার মোতায়েন, ভোটের কয়েক দিন আগে দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কঠোর নিরাপত্তা বলয়, মোবাইল টহল জোরদার, স্থানীয় হেডম্যান-কারবারিদের সম্পৃক্ত করে আস্থা তৈরির উদ্যোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, সহিংসতা বা উগ্র তৎপরতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী দীনময় রোয়াজা এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নূর ইসলাম।
শেষে বক্তারা বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত সচেতনতা এবং প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে একটি শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব; এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
রাজু








