নাগরিকের কণ্ঠকে প্রাধান্য দেওয়ার লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক এ আয়োজনে সরাসরি ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ প্রার্থীরা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের খোলামেলা মতবিনিময় হয়।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন এতে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত প্রার্থীরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, পর্যটন শিল্পের প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং পাহাড়ি অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা বিষয়ে নাগরিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। একই সঙ্গে নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে কীভাবে কাজ করবেন, তা নিয়েও নিজ নিজ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারা।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রার্থীরা পর্যায়ক্রমে মঞ্চে নিজেদের নির্বাচনী লক্ষ্য ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তারা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে অবস্থান জানান এবং দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি খাগড়াছড়িকে নিরাপদ ও পর্যটনসমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন বক্তারা।
এই নাগরিক সংলাপে অংশ নেন বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভুইঁয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির উশোপ্রু মারমা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. কাউছার (হাতপাখা), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নূর ইসলাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তফা, গণঅধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা ও সমীরণ দেওয়ান।
একজন প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকায় উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনা দেখা গেলেও, বাকি প্রার্থীদের সরব অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন ইউসুফ। পুরো কার্যক্রম সঞ্চালনা করেন সনাক ঢাকার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার। অনুষ্ঠানে সুজনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক নাগরিক উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, এই নাগরিক সংলাপের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতনতা বাড়ানো, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
রাজু








