ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

মুন্সীগঞ্জে

উচ্চস্বরে গান বাজানোতে বাঁধা দেয়া নিয়ে মা ও মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা, অতঃপর...

নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬; আপডেট: ১৮:৫৭, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

উচ্চস্বরে গান বাজানোতে বাঁধা দেয়া নিয়ে মা ও মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা, অতঃপর...

ছ‌বি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মা ও মেয়ের জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। উচ্চস্বরে গান বাজানোতে বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার জেরে মা ও মেয়েকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে প্রতিবেশী আলী হোসেন (২৮)। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত ডাসা৷ পুলিশের কাছে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে আলী হোসেন।

শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম।

তিনি বলেন, গত ১৯ জানুয়ারি সকালে সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে আমেনা বেগম (৩২) ও তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে মরিয়মের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত আমেনা বেগমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সিরাজদিখান থানায় হত্যা মামলা করেন।

শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সনজিৎ কুমার ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল টানা ১০ দিন অনুসন্ধান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নিহত আমেনা বেগমের পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আলী ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল। দীর্ঘদিন সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকলেও তার সঠিক পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে বাড়ির মালিকের কাছেও স্পষ্ট তথ্য ছিল না। পরে বিভিন্ন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর আসামি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। কখনো বাগান, কখনো স্কুলের বারান্দায় রাত কাটিয়ে তিনি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থান পরিবর্তন করতেন।

টানা অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে গজারিয়া উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি ব্রিজসংলগ্ন পাখির মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের ডাসা উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আলী হোসেস পুলিশকে জানান, মোবাইল ফোনের উচ্চ শব্দ নিয়ে বিরক্তি থেকেই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটান। ঘটনার দিন সকালে আমেনা বেগম ফোনে ভিডিও দেখছিলেন। শব্দ কমাতে বলাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি কাঠের ডাসা দিয়ে আমেনা বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এ সময় মরিয়ম মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও একইভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তি নিয়মিত মাদক সেবন করতো এবং ভবঘুরে ধরনের জীবনযাপন করতেন। ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে তার সহিংস আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ.এইচ

×