ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের চর গয়ঘর গ্রামে ১৪টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিএনপিতে যোগদান করায় প্রতিপক্ষের লোকেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় শৌলপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ভাষাণীর বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘরের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে গেছে তারা। এসময় চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না।
ওই বাড়িতে থাকা স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, সন্ত্রাসীরা তাকে দরজা খুলতে বলে। এসময় তিনি দরজা খুলে না দেয়ায় সন্ত্রাসীরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাকে পিটিয়ে আহত করে এবং ঘরের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। একই গ্রামের ইদ্রিস খানের পাকা ঘর আগুন দিয়ে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
ইদ্রিস খান বলেন, আমি বিদেশ থেকে এসে কয়েকদিন আগে বিএনপিতে যোগদান করেছিলাম। আমি এর আগে কোন রাজনীতি করিনি। তাই একটি চক্র হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িঘর সব পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া শুকুর বেপারীর ২টি বসতঘর, সাত্তার খানের ১টি বসতঘরসহ ১৪ টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে ঘরের মালামাল নিয়ে গেছে এবং কয়েকটি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দৃবৃর্ত্তরা। শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এ ঘটনায় অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপিতে যোগদান করার কারণে তাদের প্রতিপক্ষ বিএনপির অপর একটি গ্রুপ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শুকুর বেপারীর স্ত্রী মিনু আক্তার বলেন, রাত ১০টার দিকে হেলাল আকন্দের নেতৃত্বে আলেম বেপারী, করিম বেপারী, সজিব বেপারী, হানিফ বেপারী, শাজাহান খলিফা, রাজ্জাক খলিফাসহ প্রায় শতাধিক লোক আমাদের বসতঘরে ঢুকে ভাংচুর ও লুটপাট করে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার ও মালামাল নিয়ে যায়।
এদিকে এ ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদর উপজেলার চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গোলাম রসূল বলেন, ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে ঘটনার পর শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহম্মেদ আসলাম ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তারা।
অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি লোকাল কোন পলিটিক্স করি না। আমাকে ইনভলব করে কেন তা আমি জানি না। আমি বিএনপি করি। আমার এক আত্মীয় মারা গেছে, তাই গোপালগঞ্জ তার জানাজায় এসেছি।
এম.কে








