শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স চালক সিন্ডিকেটের কাছে রোগীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। এতে প্রায়ই রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার রাতে শরীয়তপুরে একটি রোগী বহন করা অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা যাওয়ার পথে সিন্ডিকেটের বাধায় দুই স্থানে আটকে রাখায় জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। জমশেদ আলী ঢালী ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা। এর আগে গত বছরের ১৪ আগস্ট একইভাবে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট একটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় অসুস্থ অবস্থায় এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
জমশেদ আলীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে জমশেদ আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সন্ধ্যায় তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। ঢাকার উদ্দেশে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় স্থানীয় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন জমশেদ আলীর পরিবার। কিন্তু রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে উঠলেই ভাড়া ৮ হাজার টাকা দাবি করে চালক ও তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগীরা। পরে অন্য অ্যাম্বুলেন্সে যেতে চাইলে তাদের যেতে না দেওয়ায় অটোরিকশায় রোগী নিয়ে শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা।
ঢাকা যাওয়ার পথে গাগ্রীজোড়া এলাকায় গাড়িটির গতিরোধ করেন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সিন্ডিকেটের সুমন, মানিক ও চালক পারভেজ এবং সজীবসহ অন্তত ৭-৮ জন। এসময় অন্তত আধা ঘণ্টা বাগবিতণ্ডা হলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেন তারা।
এরপর চালক অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে পুনরায় ঢাকা যাওয়ার জন্য রওনা হলে পথিমধ্যে জামতলা এলাকায় আবারো তাদের গতিরোধ করে রোগীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে। দীর্ঘ ৪০ মিনিট পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাড়িটি ছেড়ে দিলে পথিমধ্যেই রোগী মারা যান।
অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. সালমান বলেন, রোগীর স্বজনেরা আমার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। রওনা হওয়ার পর পারভেজ, সুমন, সজিবসহ সাত থেকে আটজন গাগ্রীজোড়া ও জামতলা এলাকায় দুইবারই আমাদের গাড়ি আটকে রাখে। আমাকে মারধর করে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি নিয়ে যায়।
জমশেদ আলীর নাতি জুবায়ের হোসেন ঢালী বলেন, সাড়ে ৬ হাজার টাকায় ঢাকায় যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করি। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে উঠলে স্থানীয় চালকসহ কয়েকজনের দাবি আট হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে তাদের অ্যাম্বুলেন্সে যেতে হবে। তাই অন্য অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া করে ঢাকা যাচ্ছিলাম। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা আমাদের আটকে রাখার কারণে সঠিক সময় দাদার চিকিৎসা করাতে পারিনি। তাদের কারণে দাদার মৃত্যু হয়েছে। আমি তাদের বিচার দাবি করছি।
এদিকে ঘটনার পর লাপাত্তা অভিযুক্ত ওই অ্যাম্বুলেন্স চালক সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
শরীয়তপুর জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, যারা এ ধরনের কাজ করেছে, তাদের কোনো ছাড় নেই। তাদের কঠিন বিচার করা হোক। আমি কখনোই কাউকে বলিনি তোমরা জোর করে রোগী নিয়ে যাও বা গাড়ি আটকাও।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, রোগীর একজন লোক এসে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নোভা








