শরীয়তপুরে বোমা বিস্ফোরণে ২জন নিহত, আটক-২ জন, ঘটনাস্থল থেকে বোমা তৈরীর বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার
বৃহস্পতিবার ভোরে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবীন নামে আরো এক যুবক মারা গেছে। এ নিয়ে মোট ২ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে বোমা বিষ্ফোরণে নিহত হয়েছিল সোহান। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ২জনকে আটক করেছে। এদিকে শুক্রবার এন্টি টেররিজম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল ও সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিট ১৬ সদস্যর দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা ঘটনাস্বল থেকে বোমা তৈরীর বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।
এন্টি টেররিজম ইউনিটের বোম ডিস্পোজাল টিমের শংকর কুমার ঘোষ মুঠোফোনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে দশটা থেকে আমরা এন্টি টেররিজম ইউনিটের বোম ডিস্পোজাল টিমের ১০ জন এবং সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিটের ৬ জন কাজ করছি। আমরা ঘটনাস্থলসহ এর আশপাশ পরিদর্শন করেছি। এই সময় আমরা বোমা তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জামাদি আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেছি। বোমা তৈরি সরঞ্জামাদির মধ্যে পাওয়া গেছে গান পাউডার, স্প্লিন্টার, ভাঙ্গা কাচ, তারের কাঁটা, কস্টেপ, জর্দার কৌটা, মার্বেল পাথর। মূলত বোমা তৈরির জন্য যেসব সরঞ্জামাদি ব্যবহার হয় অধিকাংশই ঘটনস্থলে পাওয়া গিয়েছে। আমরা আলামতগুলো উদ্ধার করছি। এগুলো উদ্ধার করে আমরা জাজিরা থানায় সেগুলো জমা করব। পরে জাজিরা থানা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই বিষয়ে, জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ জানান, সকালে বোমার এন্টি টেররিজম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল ও সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিট ১৬ সদস্যর দল ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তারা বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করছেন। বোম ডিস্পোজাল ইউনিট ও সিআইডি ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্ট দিবেন। পরে আলামত এবং তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বোমা তৈরির সময় বিলাসপুর ইউপি'র মুলাই বেপারীকান্দি এলাকায় বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। এই সময় বিস্ফোরণে ঘরের চালা উড়ে যায়। এই সময় ঘটনাস্থল থেকে আধা কিলোমিটার দূরের (রসুন ক্ষেতে) ফসলি জমিতে পাওয়া যায় ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার ব্যাপারীর ছেলে সোহান ব্যাপারীর (৩২) মরদেহ।
এই ঘটনায় আরমান নয়ন মোল্লা ( ২৫) ও মো. নবীন হোসেন (২২) নামে আরও দুজন গুরুতর আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।পরে এই গ্রামের রহিম সরদার এর ছেলে মো. নবীন হোসেন (২২) বিকাল সাড়ে চারটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মারা যায়। এই ঘটনায় অপর আহত নয়ন এখনো ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসাধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে জাজিরা উপজেলার মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামে একটি ঘরে বোমা বিষ্ফোরণে ঘটনাস্থলে সোহান নামে এক যুবক ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছিল আরো দুই জন। এদিকে ৪ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় জাবেদ শেখ (২০) নামে একজন আহত হন। এদিন অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় চার বালতি ককটেল উদ্ধার করে জাজিরা থানা পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, যে টিনের ঘরে ঘটনাটি ঘটেছে দুই মাস আগে আবু সিদ্দিক ব্যাপারীর ছেলে সাগর বেপারী সেটি নির্মাণ করেছিলেন। থানা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী জলিল মাদবরের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছিল। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই দুই ব্যক্তির সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময় তাদের সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষই ককটেল বিস্ফোরন ঘটাতো।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বোমা বিষ্ফোরণে নিহত সোহান কুদ্দুছ ব্যাপারীর সমর্থক। বর্তমানে কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক মান্নান ব্যাপারী ও জলিল ব্যাপারীর সমর্থক নাসির ব্যাপারীর অনুসারীরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
রাজু








