ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

অপেক্ষার প্রহর শেষে সাকিবের দেখা পেল ক্ষুদে ভক্ত

প্রকাশিত: ২০:২৭, ১৬ আগস্ট ২০২২

অপেক্ষার প্রহর শেষে সাকিবের দেখা পেল ক্ষুদে ভক্ত

ক্ষুদে ভক্ত নাঈম শেখ ও সাকিব

সাকিব ভাই অনেক বড়। উনার মতো অলরাউন্ডার হতে চাই। ভাই যখন অবসরে যাবেন, তখন আমি উনার জায়গায় খেলবো। 

মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রবেশ মুখে সাকিব আল হাসানের চোখ আটকে গেল ৮-৯ বছরের এক শিশুর দিকে। এর মধ্যেই অবশ্য তার পরিচয়টা পেয়ে গেছেন সাকিব, দাঁড়িয়ে থাকা ওই শিশু যে তার অন্ধভক্ত। গাড়ির গ্লাস নামিয়ে ডেকে নাম জিজ্ঞাস করলেন সাকিব, উত্তরে এলো নিজেরই নাম; 'আমার নাম সাকিব আল হাসান।'

যদিও তার নাম এটা নয়, প্রথম শ্রেণির এই ছাত্রের নাম নাঈম শেখ। প্রিয় ক্রিকেটারের প্রতি তার টান এতোটাই যে, নিজের নাম পাল্টে সবখানে নিজেকে সাকিব বলেই পরিচয় দেয় সে। ক্ষুদে ভক্তের ভালোবাসা টান সম্পর্কে অবশ্য আগেই ধারণা পেয়েছেন সাকিব। দুই-একদিন নয়, গত কয়েক মাস ধরে যে সাকিবের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টায় নাঈম। 

অবশেষে নাঈমের জীবনে এলো সেই দিন, যেদিন তিনি নিজের হাতের মুঠোয় পেলেন 'আকাশের চাঁদকে। আর এদিন কেবল দেখা করাই নয়, সাকিবের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি। মিরপুর স্টেডিয়ামের আউটারে অনুশীলনের সময় নাঈম ডেকে নেন সাকিব, স্বপ্নের নায়ককে এক ওভার বোলিংও করে সে। উপহার হিসেবে পাচ্ছে জার্সি, ট্রাউজার, জুতা ও ক্রিকেটের সরঞ্জাম। যা কাল তাকে বুঝিয়ে দেবেন সাকিব। এ জন্য বাবাকে সঙ্গে নিয়ে নাঈমকে বুধবার ১১টায় মিরপুর স্টেডিয়ামে আসতে বলেছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার।  

সাকিবের সঙ্গে দেখা করতে গত কয়েক মাস ধরে মিরপুর স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত নাঈমকে। কিন্তু প্রিয় ক্রিকেটারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হচ্ছিল না। অনেকদিন গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা নাঈম দুইদিন আগে স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢোকার সুযোগ পায়। কিন্তু এদিনও সাকিবের দেখা পায়নি সে। মঙ্গলবার এসে স্বপ্ন হাতের মুঠোয় পেল সে।

মঙ্গলবার মিরপুর স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল নাঈম। অনুশীলন করতে ওই গেট দিয়েই প্রবেশ করেন সাকিব। এ সময় নাঈমকে চোখে পড়ে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের। ডেকে কথা বলতে বলতে নাঈমকে নিয়ে ড্রেসিংরুমে যান সাকিব। 

কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর নাঈমকে নিয়ে ইনডোরে যান তিনি। ক্ষুদে ভক্ত এ সময় বোলিং করার আবদার করে বসে। পরে আউটারের নেটের উইকেটের মাঝে (অর্ধেক উইকেটে) দাঁড়িয়ে ৬টি বল ছোড়ে নাঈম, সাকিব ব্যাটিং করেন।        

নাঈম শেখের বাবা রিক্সাচালক, তার মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। এমন পরিবারের সন্তান হলেও নাঈমের স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়ার। সাকিবের মতো বাংলাদেশ দলে খেলতে চায় সে। কিন্তু পরিবারের এমন অবস্থায় সেই স্বপ্ন দেখার সুযোগ কই! বাবার কাছে চেয়েও জোটেনি একটি ব্যাট। তাই নাঈমের ইচ্ছা আরেকটু বড় হয়ে রিক্সা চালিয়ে টাকা জমিয়ে ব্যাট কেনার। যদিও সেটা করতে হচ্ছে না তাকে, স্বপ্নের নায়ক সাকিবই তার স্বপ্ন পূরণে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।  

সাকিবের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর যেন স্বপ্নের সীমানা আরও বেড়ে গেছে নাঈমের। জাতীয় দলে সাকিবের জায়গায় খেলতে চায় সে।  নাঈম বলেছে, 'সাকিব ভাই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন। আমি ভাইকে এক ওভার বল করেছি। ভাই আমাকে জুতা, ব্যাট, জামা গিফট করবেন। সাকিব ভাই অনেক বড়। উনার মতো অলরাউন্ডার হতে চাই। ভাই যখন অবসরে যাবেন, তখন আমি উনার জায়গায় খেলবো।'

সাকিবের সঙ্গে দেখা করে খুশিতে আত্মহারা নাঈম। একই অবস্থা তার বাবা কামরুল ইসলামেরও, 'বলে বোঝানো কঠিন কেমন লাগছে। এটা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। সাকিবের  সাথে সবাই তো দেখা করতে পারে না। আর ও এতো ছোট হয়েও পেরেছে, অনেক খুশি লাগছে। সাকিব বুধবার আমার ছেলেকে কিছু উপহার দেবেন। এটা কল্পনার মতো, স্বপ্নই মনে হচ্ছে।'

সম্পর্কিত বিষয়: