ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৯ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সাড়ে ১২ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাপার পর এখন বিতরণও শেষ করতে যাচ্ছে

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ১৭ অক্টোবর ২০২২; আপডেট: ২১:৩৯, ১৭ অক্টোবর ২০২২

সাড়ে ১২ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাপার পর এখন বিতরণও শেষ করতে যাচ্ছে

স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর কাছে আবেদনকৃত সব স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন  ধরে আটকে থাকা সাড়ে ১২ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স এখন বিতরণের অপেক্ষায়।ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি বিতরণও হয়ে গেছে। বাকিগুলোও সরবরাহের অপেক্ষায়। বিআরটিএ জানিয়েছে- আগামী তিন মাসের মধ্যেই সবগুলোই বিতরণ করা সম্ভব হবে। 

জানতে চাইলে বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার দৈনিক জনকন্ঠকে বলেন, এটা ছিল আমাদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। একদিকে করোনা মহামারি- অন্যদিকে এত বিপুল পরিমাণ আবেদনের নিষ্পত্তি নানা কারণেই কঠিন ও জটিল ছিল। কিন্তুু আল্লাহর রহমতে আমরা নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়েও শেষ পর্যন্ত সবগুলো লাইসেন্স তৈরি কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমরা যতো দ্রুত সম্ভব সবগুলো বিতরণের জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচিছ। ইতোমধ্যেই আমরা জেলা পর্যায়ের অফিসগুলোকে চলতি মাসের মধ্যেই তাদেরগুলো বিতরণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছি। আর ঢাকা ও বিভাগীয় শহরেরগুলো নভেম্বরের মধ্যেই শেষ করার টার্গেট নিয়ে সবাইকে তৎপর রেখেছি। 

তিনি বলেন- এই বার লাখ পেন্ডিং লাইসেন্স নিয়ে অনেক ধকল গেছে। এখন সেটা কেটে গেছে। আমাদের সবগুলো কার্ডই ছাপানো সম্পন্ন হয়েছে। অর্ধেকের বেশি কার্ড এরইমধ্যে সরবরাহ করেছি। বাকিগুলোর সরবরাহ চলমান রয়েছে। এই মুহূর্তে কার্ড ছাপানোর ক্ষেত্রে আমাদের কোনও ব্যাকলক নেই। কারোর কোন অভিযোগও নেই। 

উল্লেখ্য- এই সাড়ে বার লাখ  লাইসেন্স ছাপা নিয়ে বড় ধরণের জটিলতা দেখা দেয়। বিগত ২০১৬ সাল থেকে বিআরটিএ স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান শুরু করে। ৫ বছরে ১৫ লাখ লাইসেন্স সরবরাহের শর্তে ওই বছর টাইগার আইটির সঙ্গে চুক্তি করে বিআরটিএ। কিন্তু ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই টাইগার আইটি ১৪ লাখ লাইসেন্স প্রিন্ট করে দেয়। এ সময়ে বিআরটিএ নিয়মতান্ত্রিকভাবে লাইসেন্স সরবরাহ বন্ধ করে শুধু জরুরি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সরবরাহ শুরু করে। যার কারণে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যšত ২০ মাসে প্রায় ১৪ লাখের মতো নবায়ন ও নতুন লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়ে। কিন্তুু তখনই দেখা দেয় জটিলতা। এত বিপুল পরিমাণ আবেদনের স্তুুপ জমে যাওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় বিআরটিএ-কে। একদিকে গ্রাহকের চাপ অন্যদিকে কাজের ধীরগতির দরুণ এই জটিলতা দেখা দেয়। যে কারণে সময়মত আবেদন অনুযায়ী লাইনেন্স সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় দ্রুুত সমাধানের লক্ষ্যে এরই ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে ৪০ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহের চুক্তি করে বিআরটিএ। ওই কোম্পানি চুক্তির পর যেসব নতুন লাইসেন্স ও নবায়নের আবেদন জমা পড়েছিল— সেগুলো প্রিন্ট ও সরবরাহ শুরু করে। এর বেশি সরবরাহের সক্ষমতাও যেমন তাদের ছিল না, তেমনই আগের প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটির বিরুদ্ধেও তথ্য সরবরাহ না করার অভিযোগ ছিল। এ কারণে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যšত ২০ মাসে জমা পড়া আবেদনের  প্রায় ১২ লাখ লাইসেন্স সরবরাহ ঝুলে থাকে। এই লাইসেন্সগুলো সরবরাহে নতুন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে বিআরটিএ তিন দফা টেন্ডারও আহ্বান করে। তবে মামলার কারণে বিষয়টির আটকে যায়। অবশ্য এরই মধ্যে টাইগার আইটি তার তথ্য ভান্ডারে জমা থাকা তথ্যগুলো বিআরটিএ’র কাছে হ¯তান্তর করে। পরে সেনাবাহিনী পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডকে (বিএমটিএফএল) ডিপিএম কাজ দেওয়া হয়। যদিও কোভিডের কারণে তারা জার্মানি থেকে সময় মতো মেশিন আনতে না পারায় কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়।তখন গণাধ্যমসহ সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ইস্যুতে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। ভোগান্তির মুখে পড়েন অনেক চালক। পরিস্থিতি সাময়িকভাবে সামাল দিতে জমাকৃত আবেদনের স্লিপ দিয়ে সড়কে চলার অনুমতি  দেয়া হয়।

কিন্তু এতে চালকরা প্রায়ই হয়রাণি ও ভোগান্তির শিকার হন। বিআরটিএ-এর অফিসে জমা দেয়ার স্লিপ দেখিয়ে সড়কে চলাচলের বৈধতা দেয়া হয়। কিন্তুু দেখা গেছে অনেকে ক্ষেত্রেই ট্রাফিক পুলিশের অসাধু সদস্যরা প্রকাশ্যেই এ স্লিপ গ্রহণযোগ্য নয় বলে গাড়ি আটক করতো।পরে চালক তাদেরকে নগদ কিছু ’ দিয়ে ছাড় পেতো। এভাবেই চলে আসছিল সাড়ে বার লাখ গ্রাহক। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক জনকন্ঠেও বেশ কয়েকটি রিপোর্ট ছাপা হবার পর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে।এমনকি এই ইস্যূতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও তাগিদ দেয়া দ্রুত নিষ্পত্তির। এভাবেই বিআরটিএ শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকাই ইস্যুুর নিষ্পত্তি ঘটায়। জানা গেছে- গত মাসেই সবগুলো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাপার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) লিমিটেড আটকে থাকা এসব ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট করে বিআরটিএ’র কাছে হস্তান্তর করে।
জানতে চাইলে চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন- এটা ছিল অনেক বড় দায়িত্ব। একদিকে এতগুলো লাইসেন্স ছাপানো অন্যদিকে গ্রাহকদের চাপ সামলানো ছিল খুবই কঠিন। কিন্তুু শেষ পর্যন্ত কাজটা করা গেছে এটাই বড় অর্জন। 

এখন দ্রুত বিতরণের জন্য কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে প্রশ্ন করা হলে নুর মোাহম্মাদ মজুমদার বলেন, এ জন্য আমরা ব্যাপক প্রচার প্রচারণা করেছি। ঢাকা ছাড়াও বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের অফিসগুলোতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে গ্রাহকদের কাছে এ  তথ্য পৌছে দেয়া হয়। দেশের পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার পাশাপাশি অনলাইন ও ডিশ লাইনেও প্রচার করা হয়েছে।  গ্রাহককে এসএমএস করে তাদের কার্ড সরবরাহের সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি জেলার অফিসগুলোতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে প্রয়োজনে গ্রাহকের বাড়িতে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে লাইসেন্স পাঠিয়ে দেয়া হয়। এসব পদক্ষেপের দরুণ খুব কম সময়েই অর্ধেকেরও বেশী লাইসেন্স বিতরণ করা হয়ে গেছে। এসব কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। 
 

আজাদ

সম্পর্কিত বিষয়:

×