সোমবার ১১ মাঘ ১৪২৮, ২৪ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

‘পরিবর্তিত পরিস্থিতির মোকাবেলায় সাংবাদিকতার নীতিমালা হওয়া জরুরি’

‘পরিবর্তিত পরিস্থিতির মোকাবেলায় সাংবাদিকতার নীতিমালা হওয়া জরুরি’

অনলাইন রিপোর্টার ॥ জনগণের ভরসার এখনও শেষ ঠিকানা গণমাধ্যম। এটা জাতির জন্য আয়নাস্বরূপ। যে আয়নায় ভেসে ওঠে জাতির ও দেশের প্রতিচ্ছবি। এই প্রতিচ্ছবি যারা ফুটিয়ে তুলেন তারা কেমন আছেন? প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তাদের সাংবাদিকতা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও সংকট নিরসনে গণমাধ্যমের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা হওয়া জরুরি।

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে “পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম: ভূমিকা ও সংকট” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে বিবার্তা২৪ডটনেট ও জাগরণ টিভি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীন এবং তারা পুরোপুরি স্বাধীনতা ভোগ করছে। দেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে টকশো, অনুষ্ঠানে আলোচকরা কোনো ধরনের সেন্সর ছাড়া সরকারের কর্মকাণ্ডের যথেচ্ছা সমালোচনা করেন। এ ধরনের স্বাধীন মতপ্রকাশে সরকার কখনো হস্তক্ষেপ করে না, কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি করে না।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্য থাকে ব্যবসা করা। গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা তাদের নিজেদের কর্মস্থলে চাকরির অনিশ্চয়তায় ভোগেন। গণমাধ্যমের আয়ের উৎস বিজ্ঞাপন। দেশের বিজ্ঞাপনের বাজারের সাথে মিলিয়ে গণমাধ্যমের সংখ্যা থাকলে সংকট হতো না। লাইসেন্স দেয়া এবং নেয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের বাজার হিসেব করে দেয়া হলে বেতন, কর্মচারী সংকট তৈরি হতো না।

গণমাধ্যম নীতিমালা হওয়া জরুরি। ছোট দেশে ৩০টির বেশি টেলিভিশন, কয়েকশ দৈনিক পত্রিকা আছে। এসবের ধারণক্ষমতা আছে কি-না ভাববার বিষয়। গণমাধ্যমের করপোরেট কালচার ডেভেলপ করা দরকার।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২০০৭ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা আত্মসাতের কারণে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলা হলো। বিএনপির বড় বড় আইনজীবীরা তার জন্য লড়েছেন। সন্দেহাতিতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছেন।

নৈতিক স্খলনের কারণে তার শাস্তি হয়েছে। বিএনপি নেতারা বেগম জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে সকাল-বিকাল অযৌক্তিক দাবি তুলে যাচ্ছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিদেশে চিকিৎসা দেশের আইনের মধ্যে পড়ে না। দণ্ড স্থগিত অবস্থায় কেউ দেশের বাইরে যেতে পারে না।

একমাত্র দণ্ড মওকুফ হলে তিনি বিদেশে যেতে পারেন। দোষ শিকার করে রাষ্টপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ আছে। রাষ্ট্রের অভিভাবক দয়ালু মানুষ। তিনি চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন।

গোলটেবিল আলোচনা সভায় কি-নোট স্পিকারের বক্তব্যে জিটিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে গণমাধ্যম নাগরিকের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখে, তথ্য জগতে তার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে। মানুষ জানতে চায়, মানুষ সমাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায়। আর সেখানেই গণমাধ্যমের ভূমিকা।

নীতিনির্ধারক, আইনসভাসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ ঘটাতে ভূমিকা রাখে গণমাধ্যম। গণমাধ্যমে প্রতিফলিত হয় দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা। স্বাধীনতার আগে এবং পরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম মানুষের প্রতিটি গণতান্ত্রিক, সমাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সঙ্গে থেকেছে।

বাংলাদেশে গণমাধ্যম নানা ঐতিহাসিক ঘটনায়, মানুষের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থেকেছে। দুর্নীতি, সহিংসতার ইস্যুকে অনেক সময় গণমাধ্যমই সবার আগে মানুষের কাছে নিয়ে আসতে পেরেছে।

আজকের পত্রিকার সম্পাদক গোলাম রহমান বলেন, আমরা অনেক কিছুই বলছি, লিখছি কিন্তু আমরা অনেক কিছুই প্রকাশ করছি না।এর মানে হচ্ছে আমাদের নিজেদের ভেতরেই অনেক ধরনের স্ববিরোধীতা আছে। আমরা নিজেরাই অনেক সময় বাংলাদেশ বেতার বা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মতো গণমাধ্যমের সমালোচনা করি, যখন দেখি গণমাধ্যম জনমুখী ভূমিকা রাখছে না।

সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির যুগে যেমন অনেক বেশি তথ্যবহুল সংবাদ পরিবেশন করা যায়, ঠিক তেমনি এর মাধ্যমে খুব দ্রুত গুজবও ছড়িয়ে দেয়া যায়। যারা এর সুষ্ঠু ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করছেন তারা কিন্তু ঠিকই সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিচ্ছেন এবং সেটার অসংখ্য উদাহরণ আমাদের সামনেই আছে। আইপি টিভির একসময় অবাধ বিচরণ ছিল, যাচ্ছেতাই মনগড়া সংবাদ পরিবেশন করতো তারা। তবে আশার কথা হচ্ছে সম্প্রতি সরকার সেটারও নীতিমালা দিয়েছেন।

ডিবিসি নিউজ সম্পাদক প্রণব সাহা বলেছেন, সাংবাদিকদের তথ্য প্রবাহের জন্য প্রতিদিনই পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সাংবাদিকরা হচ্ছেন কাঁটা বিছানো পথে হাঁটা মানুষ। প্রতিনিয়ত তাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের গণমাধ্যমের সংকট শেষ হবে না, কিন্তু আমাদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের সাংবাদিকদের মনে রাখতে হবে, আমি যখন সাংবাদিকতা করছি তখন দেশের ও সমাজের খারাপ দেখলে আমাদের সমালোচনা করতেই হবে। আমরা সমালোচনা না করলে এগুলো শোধরাবে কী করে?

দেশের ডিজিটাল প্লাটফরম এগিয়ে নিতে ফেসবুক এবং ইউটিউবের একচেটিয়া মনোপলি ব্যবসা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা পোস্টের সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার।

ঢাকা পোস্ট সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশে এখন ফেসবুক ও ইউটিউবের বড় বিজ্ঞাপন বাজার। সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো বিজ্ঞাপন পাবলিশ করা হয় কিন্তু আমাদের সবচেয়ে কম রেট দেয়া হয়। দেশিয় বিজ্ঞাপন ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচার হচ্ছে। স্থানীয় পত্রিকা কিছু বিজ্ঞাপন পায়, টেলিভিশনে আস্তে আস্তে এ খাত থেকে আয় সংকুচিত হয়ে আসছে। দেশে ফেসবুক এবং ইউটিবের এ একচেটিয়া মনোপলি ব্যবসা বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো উদ্যোগ না নেয়া হয় তাহলে দেশের ডিজিটাল মিডিয়া এগোতে পারবে না।

নিউজ ২৪ এর যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আঙ্গুর নাহার মন্টি বলেন, মূলধারার সাংবাদিকতার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে সোশ্যাল মিডিয়া। বর্তমানে গণমাধ্যম নিয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় যে উদ্বেগ, সেটা হচ্ছে সাংবাদিকতা ও সংবাদকর্মীরা একেবারেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আস্থার সেই জায়গাটা সাধারণ মানুষের কাছে আর নেই।

হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকরা চাকরি করছেন মাত্র, কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে আমাদের নীতি-নৈতিকতা কী হবে সেটা ঠিক করার দায়িত্ব যেমন সাংবাদিকদের আছে, তেমনি প্রতিষ্ঠানেরও আছে। এখনো আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোন ধরনের নীতিমালার বালাই নেই। যা আছে সব কগজে কলমে। টিভিগুলোর অবস্থা তো আরো হযবরল অবস্থা। এগুলো নিয়ে কথা বলার কেউ নেই। আমরা মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলি, কিন্তু আমাদের নিয়ে কথা বলার কেউ নেই।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিবার্তা২৪ডটনেট সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসি বলেন, আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক, একইসাথে এটার মালিকও। কাজেই সাংবাদিকতাকে দুইদিক থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। আমার মতে, সাংবাদিকতা হচ্ছে থ্যাংকলেস জব। এখানে ভালো কাজ করলে কেউ ধন্যবাদ দিবে না। আবার নাম আগে-পরের জন্যও অনেকে চার্জ করার জন্য বসে থাকে। এ সেক্টরে সংকট রয়েছে, সংকট থাকবে। তবে এটাকে সম্ভাবনায় পরিণত করতে হবে। আর যদি এ পেশার চাপের কথা বলি, তাহলে এ চাপটা সরকার ও রাজনৈতিক দল থেকে না, এটা নিজের ভেতর থেকে আসে।

জাগরণ টিভি’র প্রধান সম্পাদক এফএম শাহীনের সঞ্চালনা ও বিবার্তা২৪ডটনেট সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসি’র সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট কুহেলী কুদ্দুস মুক্তি, মাহমুদ সালাউদ্দিন চৌধুরী, হাবিবুর রহমান রোমেল,নাজমুল হক সিদ্দিক, বরিকুল ইসলাম বাঁধন, এস এম রাকিবুল হাসান, রবিউল রূপম সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিশিষ্ট জন।

শীর্ষ সংবাদ:
বিধিনিষেধের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা এক সপ্তাহ পর : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী         মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২৬ মার্চ বিশেষ কর্মসূচি পালন নিয়ে ভাবছে কমিটি         ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্ধেক জনবলে চলবে         টাকা ফেরত পেলেন ই-কমার্স কোম্পানি কিউকমের ২০ গ্রাহক         জাবি শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন শাবি ভিসি         পদত্যাগ করলেন আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্ট         পুলিশের কাজ ‘পেশা’ নয় ‘সেবা’: বেনজীর আহমেদ         সরকারকে বিব্রত করতেই ইসি আইনের বিরোধিতা ॥ হানিফ         ঢাবিতে শিক্ষকদের প্রতীকি অনশন         ৮৫ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন         সুগন্ধা ট্রাজেডি ॥ একমাসেও অভিযান লঞ্চের ৩২ যাত্রীর খোঁজ মেলেনি         চরবিজয়ে চলছে ইলিশসহ সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু পোনা নিধনের তান্ডব         বায়ুদূষণে বাড়ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি         সিরিয়ার কারাগারে আইএসের হামলা ॥ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২০         নিজ দেশের দূতাবাস কর্মীদের পরিবারকে ইউক্রেন ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের         বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্টকে আটক করেছে বিদ্রোহী সেনারা ॥ রয়টার্স         সৌদিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ আহত ২         কাছে গিয়েও পারলো না বাংলাদেশের মেয়েরা         রাজশাহীতে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়েছে করোনা সংক্রমণ, তিনজনের মৃত্যু         করোনা ভাইরাস ॥ ভারতে টানা পাঁচ দিন ধরে দৈনিক শনাক্ত ৩ লাখের বেশি