রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে ধসের আশঙ্কায় পাহাড়বাসীরা আতঙ্কে

প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৫
  • * লালখান বাজারের ৬ শতাধিক পরিবার ঝুঁকিতে
  • * ফের থমকে গেছে উচ্ছেদ অভিযান

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ বর্ষার শুরুতেই এবার আতঙ্কে আছেন পাহাড়বাসী। অতি বৃষ্টিতে নরম হতে শুরু হয়েছে পাহাড়ের মাটি। যে কোন মুহূর্তে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন হতদরিদ্র এসব মানুষ। চট্টগ্রামে গত ৩ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে মঙ্গল ও বুধবারের বৃষ্টি মাত্রাতিরিক্ত। অতি বৃষ্টির কারণে যে কোন মুহূর্তে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। নগরীর লালখানবাজার এলাকার মতিঝর্ণা ও ওয়াসার ট্যাঙ্কির পাহাড় এলাকায় মাটি খসে পড়তে দেখা গেছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ১২৪.৬ মিলিমিটার হিসেব করেছে চট্টগ্রামের আবহাওয়া অধিদফতর।

গত কয়েক দিন ধরে লালখানবাজার এলাকায় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এবং রেলের বিভিন্ন স্থাপনার দেয়াল ঘেঁষে বসবাসকারী ৬৬৬ পরিবারকে রমজানের আগেই সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল জেলা প্রশাসনের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি পরিবারকে কাঁচা ঘর ভাংচুরের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে রমজানের কারণে আবারও থমকে গেল উচ্ছেদ অভিযান। অপরদিকে অতিবৃষ্টিও অভিযানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার লালখানবাজার এলাকায় মতিঝর্ণা ও ওয়াসার ট্যাঙ্কির পাহাড় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দেড়-দুই ফুট মাপের সরু রাস্তা দিয়ে আতঙ্কে পার হচ্ছে হতদরিদ্ররা। যে কোন মুহূর্তে গায়ের ওপর ধসে পড়তে পারে পাহাড়ের কাটা অংশ। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও জীবনের তাগিদে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে পথ চলছে সাড়ে ৬ শতাধিক পরিবারের লোকজন। পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচের পাদদেশে তাকালেই অনুভূত হয় কতটা ঝুঁকিতে আছে তারা। রেলের সিআরবির এস্টেট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ের পাদদেশে থাকাদের ও রেলের বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বস্তিগুলোকে সতর্কীকরণ নোটিস দেয়া হলেও তারা স্থান ত্যাগে অপারগ। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় রেলের মালিকানাধীন লালখানবাজার, মতিঝর্ণা এলাকা, বাটালি হিল, আমবাগান, পুলিশ বিট মোড়ের সেলস ডিপোর বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বস্তি, পাহাড়তলীর জেনারেল ইলেকট্রিক শপ ও জোট ডেবার উত্তর পাশে গড়ে ওঠা বস্তির লোকজনকে মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে সরে যাওয়ার জন্য নোটিস দেয়া হয়েছে।

এদিকে পাহাড়তলী জোড় ডেবার উত্তর পাশে, জাকির হোসেন রোডসংলগ্ন ঝাউতলা রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা বস্তি, শহীদ লেন আবাসিক এলাকার দেয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বস্তি, বাটালি রোডের জামতলার বস্তি, জামতলা হাসপাতাল কলোনি এলাকায় বেশকিছু বস্তি গড়ে উঠেছে অবৈধ দখলদারের প্রভাবে। টাইগারপাস পুলিশ বক্সের উত্তর ও পূর্ব পাশে পাহাড়ের পাদদেশে এবং মাঝামাঝিতে গড়ে উঠা কাঁচা ঘর, তুলাতুলি ও ফয়স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩নং ঝিল এলাকায় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে কাঁচা ও সেমিপাকা ঘর। এসব ঘরে বসবাস করছে শত শত পরিবার। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এসব পরিবারের লোকজনকে কম ভাড়ায় থাকতে সহায়তা করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা ভূমিদস্যুরা। ফলে রেল প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে গেলেও তাদের বাধার মুখে বিভিন্ন সময় ফিরে আসতে হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৫

২৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



ব্রেকিং নিউজ: