মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মানুষ এখন খাচ্ছে বিজ্ঞানের দান, কৃষি উৎপাদিত খাবার একে বলা চলে না ॥ মতিয়া

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে মানুষ যা খাচ্ছে তা কৃষি উৎপাদিত বলা যায় না, বরং যা খাচ্ছি তা বিজ্ঞানের দান। বিজ্ঞান না থাকলে আজ কী অবস্থা হতো। এ জন্য বিজ্ঞানীদের চাকরির বয়সসীমা কী হবে, বেতন কাঠামো কী হবে, এসব ভাবতে হবে। ভাল বিজ্ঞানীদের ধরে রাখার ব্যবস্থা কী হবে তা বের করতে হবে। বিজ্ঞানীদের আত্ম-অহমিকা ও ঈর্ষা রয়েছে। সে জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খাতভিত্তিক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গত ৫ বছরে আমি ভাল বিজ্ঞানীদের ধরে রাখতে পারিনি। মাকসুদুল হক এলেন পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কার করলেন, তার পর মারা গেলেন। কিন্তু তারপর কী হবে? এই জায়গাটিতে নজর দিতে হবে। মতিয়া চৌধুরী বলেন, আল্লাহ তায়ালা যেহেতু কৃষকদের জন্য ইলেকট্রিক বিল পাঠায় না, সেহেতু তার দান সৌরবিদ্যুত কিভাবে কৃষকদের কাজে লাগানো যায়, দয়া করে তার ব্যবস্থা করুন। ডেল্টা পরিকল্পনার মাধ্যমে ভূমি উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, ভূমি শুধু উদ্ধার করলেই হবে না, তা কিভাবে কাজে লাগানো হবে এখন থেকেই এ জন্য একটি পলিসি করতে হবে। না হলে ভূমি উদ্ধার করে আবার সেটি রক্ষার জন্য পুলিশী পাহারা দিয়ে রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০) দলিলের খাতভিত্তিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের এমডি ড. মাহবুব হোসেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার স্ট্যাটিস্টিকস বিভাগের ডিন প্রফেসর পরেশ চন্দ্র মোদক প্রমুখ।

পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আগামীতে কৃষকদের জন্য পানি সেচের ক্ষেত্রে প্রি-পেইড ব্যবস্থার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। নদী খনন ও ড্রেজিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। তাছাড়া খাস জমিতে পুকুর ও জলাশয় তৈরি করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, নদী রাখতে না পারলে কিছুই থাকবে না। পানি সমস্যা একটি বড় সমস্যা। টি আর, কাবিখা, কাবিটার টাকা যদি সোলার প্যানেলে না দিয়ে কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ব্যয় করা হয় তাহলে অনেক ভাল হবে। তাছাড়া নদীভাঙ্গন রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমরা চাই একটি সুন্দর দেশ গড়ে উঠুক। এ জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ থাকছে এ পরিকল্পনায়।

ড. শামসুল আলম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় বলেন, কৃষিতে গ্রীন টেকনোলজি ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ থাকবে। সেচের ক্ষেত্রে ডিপ টিউবওয়েল ব্যবহার থেকে সরে আসছে চাচ্ছি। কৃষিপণ্য প্রসেসিংয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়।

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫

১৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



ব্রেকিং নিউজ: