মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ব্রিটেন-ফ্রান্স বিরোধ তুঙ্গে

প্রকাশিত : ৩০ মে ২০১৫

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছ থেকে তার দেশের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে ব্লকভুক্ত দেশগুলোর রাজধানী সফর শুরু করেছেন। তিনি এসব দেশকে এ বলে সতর্ক করে দেবেন যে, ইইউ তাঁর দাবি-দাওয়া না মানলে ব্রিটেন ঐ ব্লক ত্যাগ করবে। একই সময়ে ফ্রান্স ইইউ ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করার দায়ে ক্যামেরনকে অভিযুক্ত করেছে। ফ্রান্স ক্যামেরনের ব্রাসেলসের কাছ থেকে আরও ক্ষমতা ফিরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা নস্যাত করে দেবে বলেও আভাস দিয়েছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান ও টেলিগ্রাফের।

ক্যামেরন তাঁর দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরতে শুক্রবার জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেলের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। এর আগে ফ্রান্স ও জার্মানি ইইউ চুক্তিতে (লিসবন ট্রিটি) পরিবর্তন না এনে ইউরোপকে আরও সংহত করার এক চুক্তিতে পৌঁছায়। এটি ছিল ক্যামেরনের পরিকল্পনার প্রতি এক গুরুতর আঘাত।

ক্যামেরন ‘যুক্তরাজ্যের ইইউর সদস্য হিসেবে বজায় থাকা উচিত?’ এ প্রশ্নে ২০১৭ সালে এক গণভোটের আয়োজন করবেন। এর আগে ইইউ চুক্তিতে পরিবর্তন আনাসহ সুযোগ-সুবিধা আদায় করতে চান তিনি। কিন্তু কোন গণভোটের আগে এরূপ পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই। কারণ এতে ইইউভুক্ত ২৮টি সরকারের সবারই অনুমোদন লাগবে। কোন কোন সরকারকে অনুমোদন দিতে হলে নিজস্ব দেশে গণভোট করতে হবে।

ক্যামেরন বলছেন, তিনি চারটি বড় ক্ষেত্রে পরিবর্তন চান। তিনি চান, বৈধ ইইউ অভিবাসীদের সমাজ কল্যাণ ভাতা দাবি করার অধিকার সীমিত করা হোক এবং চাকরিরত অবস্থায় তাদের সেই ভাতা দাবি করতে হলে তাদের চার বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে বিধান করা হোক। তিনি চান, ইউরো ব্যবহার করে না, ব্রিটেনের মতো এমন দেশগুলো ইউরোজোনে অবাধ বাণিজ্য ও অর্থসেবা বজায় রাখতে তৈরি করা নিয়মকানুনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এমনটা নিশ্চিত করা হোক। তিনি চান ইইউতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একীভূত হওয়ার চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা থেকে ব্রিটেনকে অব্যাহতি দেয়া হোক। তিনি চান, ইইউ কর্তৃপক্ষ জাতীয় পার্লামেন্টগুলোর কাছে কিছু ক্ষমতা ফিরিয়ে দিক। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড ইইউ নেতাদের উদ্দেশে এক কড়া সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি বিবিসি নিউজে বলেন, যদি এসব ইস্যুর নিরসন না করা হয়, তা হলে ব্রিটিশ জনগণ ব্রিটেনের ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষে তাদের অনুমোদন দেবে না এটি আমাদের ইউরোপীয় প্রতিপক্ষরা বুঝতে পারেন বলে আমরা আস্থাশীল।

ফরাসি পররাষ্ট্র লরাঁ ফ্যাবিয়াস বলেছেন, ইইউ সদস্যপদ নিয়ে ব্রিটেনের গণভোট খুবই ঝুঁকিবহুল ও একেবারেই বিপজ্জনক।

তিনি বলেন, ব্রিটেন এক ফুটবল ক্লাবে যোগ দিয়েছে এবং খেলার মাঝামাঝি সময়ে তারা রাগবি খেলতে চায় বলে স্থির করতে পারে না।

ফ্যাবিয়াস সতর্ক করে দেন যে, যদি যুক্তরাজ্য ইইউতে বিশেষ মর্যাদা দাবি করে, তা হলে প্যারিস এতে বাধা দেবে।

তিনি বলেন, আমরা ইইউর উন্নতি ঘটাতে রাজি হলেও আমরা এর ভাঙ্গনে সম্মত হতে পারি না। যদি এরূপ গুরুত্বপূর্ণ কোন দেশ ইউরোপ ত্যাগ করে, তা হলে এটি ইউরোপ সম্পর্কে খুবই নেতিবাচক ধারণা দেবে।

ক্যামেরন ইইউর চারটি দেশের রাজধানীতে তার সফরের প্রথম দিনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ফ্যাবিয়াস ফ্রান্স ইন্টার রেডিও স্টেশনের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে ঐসব মন্তব্য করেন। ওলাঁদ আশা ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাজ্য ইইউতে থেকে যাবে এবং ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের এক সঙ্গে কাজ করা উভয় পক্ষের স্বার্থেরই অনুকূল হবে। ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠকের পর ওলাঁদ বলেন, আমরা ইইউতে গ্রেট ব্রিটেনের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি বলেন, ফ্রান্স চায় গ্রেট ব্রিটেন ইইউতেই থাকুক। সেখানে এক গণভোট হবে এবং ব্রিটিশ জাতি এর ভবিষ্যতের জন্য কি চায়, তা স্থির করা এর বিষয়।

প্রকাশিত : ৩০ মে ২০১৫

৩০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: