মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রামেক হাসপাতালে ফেলে রেখে যাওয়া শিশুটি কার!

প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৫
  • নিজের সন্তান মনে করে মানুষ করার অনুরোধ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফেলে রেখে যাওয়া ৬ বছরের এক কন্যাশিশুর ঠাঁই হয়েছে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)। গত ৪ দিন ধরে সেখানেই রয়েছে শিশুটি। প্রায় অসুস্থ থাকায় শিশুটিকে এখনও ওসিসিতে সেবা দেয়া হচ্ছে। তবে শেষপর্যন্ত তাকে কোথায় রাখা যায়- এ নিয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রামেক হাসপাতাল থেকে জন্মের পর চুরি হয় শিশুটি। চুরির পর কোন পরিবার তাকে লালনপালন করে। এখনও মেয়েটি তার নাম স্পষ্ট করে বলতে পারছে না। তবে যেখানে লালনপালন হয়েছে সেখানে তাকে পুতুল বলে ডাকতো বলে জানায়। আর পালিত বাবার নাম সে জানায় নাদের। পবার দারুসা এলাকায় থাকত বলে জানালেও আর কিছু বলতে পারছে না। এই মেয়েটিকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পাওয়া যায় রামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে। এ সময় তার কাছে থাকা কয়েকটি জামাকাপড়ের পোটলায় একটি চিরকুটও পাওয়া যায়। হাসপাতালের আনসার সদস্য ও বক্স পুলিশের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে। ওই চিরকুটে লেখা হয়Ñ ‘যেখানে পেয়েছিলাম সেখানে রেখে গেলাম।’ আরও লেখা হয়Ñ ‘শ্রদ্ধেয়, ¯েœহের ভাই, বোনেরা, আমি এই মেয়েটিকে কুড়িয়ে নিয়ে গিয়ে মানুষ করেছি, কিন্তু এখন আর পারছি না, কারণ আমার স্বামী নাই, তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাই, এতদিন এই মেয়েটিকে অনেক কষ্ট করে রেখেছি, কিন্তু এখন ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে আমি হিমসিম খাচ্ছি, মেয়েটি তার নাম-ঠিকানা কিছুই স্পষ্ট বলতে পারছে না।’ রামেক হাসপাতাল বক্স পুলিশের ইনচার্জ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই জরুরী বিভাগের কাছে হাতে একটি জামা-কাপড়ের পোটলা নিয়ে শিশুটি দাঁড়িয়ে ছিল। কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাবে বা সঙ্গে কে আছেÑ এসব বিষয়ে মেয়েটি কোন কথাই বলছে না। মেয়েটিকে বর্তমানে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রাখা হয়েছে।

রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মেয়েটি সামান্য অসুস্থ রয়েছে। স্বাভাবিক হলে তাকে কোন সেইফ হোমে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৫

২৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: