মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মিরপুরের রাজা সাকিব

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৫

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আর মাত্র ১১ রান দূরে ছিলেন। সেঞ্চুরি হাঁকানো হলো না। এর আগেই বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়ে গেল। আগেই বিপদটা বুঝতে পেরেছিলেন। তৃতীয় দিনের শুরুতেই যখন সৌম্য সরকার আর শুভাগত হোম চৌধুরী সাজঘরে ফিরলেন তখন থেকেই পাকিস্তানী বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা টেলএন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে যে কাজটা করেন ঠিক তেমনটাই করেছেন বিশ্বসেরা টেস্ট অলরাউন্ডার সাকিব। দলীয় ১১৯ রানেই ৭ উইকেট চলে যাওয়ার পর ঝড় তোলেন তিনি। ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট চালিয়ে সচেষ্ট হয়েছেন দলের রান বাড়াতে। দ্রুতই পেয়ে যান অর্ধশতক। এর আগেই মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ব্যক্তিগত ১০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। এই ভেন্যুতে বাংলাদেশ তো বটেই বিশ্বের আর কোন ব্যাটসম্যানের ১ হাজার রান নেই। ক্যারিয়ারের ১৯তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯১ বলে ১৪ চার ও ২ ছক্কায় ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ দল। পাক বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেননি কোন ব্যাটসম্যান। সাকিব নেমেই প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলন। কিন্তু এ যাত্রা বেঁচে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত দিন শেষে অপরাজিত ছিলেন ১৪ রান নিয়ে। দলের রান ৫ উইকেটে ১০৭ হলেও সাকিবের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল পুরো বাংলাদেশ। কিন্তু একপ্রান্তে সাকিব থাকলেও অন্যপ্রান্তে স্বীকৃত দুই ব্যাটসম্যান সৌম্য কিংবা শুভাগত কেউ টিকতে পারলেন না। সাকিব দ্রুতই তাঁদের বিদায় দেখলেন। আর তারপরই করণীয় ঠিক করে ফেললেন। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা জুটি গড়ার জন্য সহায়ক হতে পারেননি। ব্যাট চালানোয় কিছুটা দক্ষ তাইজুল ইসলামও দ্রুত বিদায় নেন। দলীয় সংগ্রহের অবস্থা বেশ করুণ। ১৪০ রানেই ফিরে গেছেন আট ব্যাটসম্যান। সে কারণে এবার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন সাকিব। ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট চালাতে থাকেন। তৃতীয় দিনের শুরু থেকেই বেশ সাবলীল ছিলেন তিনি। তবে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা পাক বোলিংকে কোন পাত্তাই দেননি এরপর। ইয়াসির শাহকে টানা দুটি চার হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের ১৯তম ফিফটি আদায় করে নেন। মিরপুর টেস্টে নামার আগে এ ভেন্যুতে সর্বাধিক ৮৫৬ রান নিয়ে নেমেছিলেন সাকিব। ফিফটির আগেই আরও একটি মাইফলক ছুঁয়েছেন তাই ৪৪ রান করেই। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে বাংলাদেশের ‘হোম অব ক্রিকেটে’ এক হাজার রান করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। অবশ্য এ ভেন্যুতে যেকোন ক্রিকেটারের চেয়ে সর্বাধিক ১৩ টেস্ট খেলেছেন সাকিবই। ১২টি করে টেস্ট খেলেছেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহীম। মিরপুরের উইকেটে রান করার দিক থেকেও এ দু’জনই সাকিবের নিকটবর্তী। তামিম মিরপুরে করেছেন ৩৫.৩৬ গড়ে ৭৭৮ রান আর মুশফিক ৩১.৯৪ গড়ে ৫৭৫।

মাত্র ৭২ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় অর্ধশতক পাওয়ার আগেই অবশ্য আউট হয়ে যান সাকিব। পেসার ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবারও রক্ষা পেয়েছেন সেটি ‘নো বল’ হওয়ার কারণে। নতুন জীবন পাওয়া এবং দলের পরিস্থিতি এ দুটি কারণে আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন সাকিব। তাঁকে আর আটকে রাখা যায়নি। আরও বিধ্বংসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। নবম উইকেটে আরও ৬৩ রান যোগ হয় দ্রুতবেগে। শেষ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শহীদকে নিয়ে তিনি এ রান তুলেছেন মাত্র ৯ ওভারে। পেসার শাহাদাত হোসেন টেস্টের প্রথম দিনই ইনজুরিতে পড়ার কারণে একজন ব্যাটসম্যান কমে গেছে বাংলাদেশের। আর সে কারণেই তা-ব চালালেন সাকিব। শহীদ যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে ২০ বল খেলেছেন, সঙ্গ দিয়েছেন সাকিবকে। তিনি আউট হয়ে যাওয়ার পরই বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়ে যায়। সাকিব ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন। এদিন ১৪ চার ও ২ ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি মিরপুরে ১২৫টি বাউন্ডারি ও ৬ ছক্কা হাঁকানোর মালিক হয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে মিরপুরে চার হাঁকানোতেও তিনি সবার ওপরে। দ্বিতীয় স্থানে আছেন অবশ্য ছক্কা হাঁকানোয়। সর্বাধিক ৭ ছক্কা আছে তামিমের, চার হাঁকিয়েছেন তিনি ১০২টি। যা মিরপুরে দ্বিতীয় সর্বাধিক। মিরপুরে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক হাজার রানের মালিক সাকিবের রান এখন ১০৪৫। গড় ৪৭.৫০।

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৫

০৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: