কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

টেস্ট সিরিজেও চমক থাকবে

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫
টেস্ট সিরিজেও চমক থাকবে
  • দুই টেস্টের সিরিজ ড্র করতে পারলেই অনেক বড় অর্জন ॥ মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ স্বল্প পরিসরের ক্রিকেট শেষ। এবার দীর্ঘ পরিসরের সিরিজ। ওয়ানডে সিরিজে সফরকারী পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার পর একমাত্র টি২০ ম্যাচেও হারিয়ে দিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। এ চারটি ম্যাচেই বিন্দুমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি পাক শিবির। এবার দুই টেস্টের সিরিজ বাকি। আগামী মঙ্গলবার খুলনায় শুরু হবে প্রথম টেস্ট। ইতোমধ্যে শতভাগ জয় তুলে নেয়ায় দারুণ আত্মবিশ্বাসী এখন টাইগার শিবির। তবে এর আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৮ টেস্ট খেলে ন্যূনতম ড্রয়ের মুখও দেখেনি বাংলাদেশ দল। সব টেস্টেই হেরে গেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ওয়ানডে ও টি২০ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা থাকছেন না টেস্ট সিরিজে এখনও লঙ্গার ভার্সনের ক্রিকেট খেলার মতো উপযোগী ফিটনেস অর্জন না করায়। মুশফিকুর রহীমের নেতৃত্বে খেলবে এবার বাংলাদেশ দল। তবে টেস্ট সিরিজের জন্য আশাবাদ জানিয়েছেন মাশরাফি। তিনি দাবি করেছেন পাকদের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ ড্র করলেই তা যথেষ্ট খুশির ব্যাপার হবে বাংলাদেশ দলের জন্য।

চারটি করে টেস্ট ম্যাচ নিজেদের মাঠে এবং পাকিস্তানে গিয়ে খেলেছে টাইগাররা। এর মধ্যে ইনিংস পরাজয়ের হতাশা সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের জন্য চারবার। সর্বশেষ ২০১১ সালের ডিসেম্বরে দুই দলের মধ্যে টেস্ট খেলা হয়েছে। সেবারও বাংলাদেশ সফরে এসে অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের দল জিতে গেছে খুব সহজভাবে। তবে গত সাড়ে তিন বছরে অনেকটাই বদলে গেছে বাংলাদেশ দল। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে তেমন ভাল করার রেকর্ড না থাকলেও এ সময়ের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটেও বেশ উন্নতি করেছে টাইগাররা। পাকিস্তানের মোকাবেলা করার পর থেকে আরও ১৫ টেস্ট খেলেছে দল, যার মধ্যে ৭ টেস্ট হারের বিপরীতে বাংলাদেশ জয় তুলে নিয়েছে চারটিতে এবং ড্র করেছে চারটি। গত বছরের শেষদিকে জিম্বাবুইয়েকে ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার মধুর স্মৃতিও আছে। তারপর থেকে আর গত ৫ মাস কোন টেস্ট খেলেনি দল। দীর্ঘ এ বিরতিতে বিশ্বকাপ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বল্প পরিসরের ক্রিকেট নিয়েই বেশি ব্যস্ত থেকেছে দল। এতবড় বিরতি শেষে টেস্ট ক্রিকেটে ভাল করাটা বেশ চ্যালেঞ্জের হবে বাংলাদেশের জন্য। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমি মনে করি ধারাবাহিকতাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে আমরা যেভাবে ওয়ানডেতে ম্যাচ জিতেছি তা ছিল অসাধারণ। আমরা ভাল খেলে ও প্রভাব খাটিয়ে জিতেছি। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের সাফল্য। আশা করছি এই ধারাবাহিকতা টেস্টেও থাকবে।’ অনেক দিন বিরতির পর টেস্ট খেলতে নেমে ভাল করাটা সহজ হবে না টাইগারদের জন্য। যদিও এর মাঝে ক্রিকেটাররা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট আসর জাতীয় ক্রিকেট লীগে (এনসিএল) খেলেছে। যদিও জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এবার এনসিএলে অংশ নিতে পারেননি। তবে খুলনায় প্রথম টেস্টের আগে আরেকটি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল) খেলার সুযোগ পেয়েছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘শেষ ৬-৭ মাস কিন্তু আমরা সাদা বলেই অনুশীলন করে এসেছি। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতিটা খুব ভাল হওয়া দরকার। কারণ, এটা ভিন্ন ধরনের খেলা।’ তবে টেস্ট সিরিজেও খেলবেন এমন কিছু ক্রিকেটার রান পাওয়াটাকে বেশ ইতিবাচক দিক মনে করছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘খুব ভাল হয়েছে যে টেস্টের আগে সাকিব ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছে। রুম্মন হয়তবা টেস্ট ম্যাচে নেই। দলে মূল খেলোয়াড়দের ব্যাটিং করাটা প্রয়োজন ছিল। আজকে (টি২০ ম্যাচে শুক্রবার) যেটা সাকিব করেছে সেটা যদি টেস্টেও করতে পারে তাহলে ভাল হবে। শুধু টি২০ না টেস্ট কিংবা ওয়ানডেতেও বোলাররা ভাল করলে ম্যাচ জয় সহজ হয়ে যায়। সব সময় আমি বিশ্বাস করি ক্রিকেটটা বোলারদের খেলা।’

আগে খেলা টেস্টগুলোর মধ্যে একবারই পাকিস্তানকে বাগে পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে পারেনি। ২০০৩ সালে মুলতানে জয়ের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল সফরকারী টাইগাররা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইনজামাম-উল-হকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে মাত্র ১ উইকেটে হেরে যায়। ১২ বছর কেটে গেছে। এখন বাংলাদেশ দারুণ ফর্মে আছে এবং পাক শিবিরকে ওয়ানডে সিরিজে বিধ্বস্ত করে এবং টি২০ ম্যাচে উড়িয়ে দেয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘টেস্ট সিরিজ যদি আমরা ড্র করতে পারি তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ফলাফল হবে। টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের অনেক উন্নতিও করতে হবে।’

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫

২৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: