কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দু’পারেই চোরাচালানি সিন্ডিকেট সক্রিয়, ধরা পড়ে শুধু বাহকরা

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • সীমান্তের ওপারে (২)
  • গডফাদাররা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে

মামুন-অর-রশিদ, কলকাতা থেকে ফিরে ॥ বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের দুই পারেই রয়েছে শক্তিশালী চোরাচালানি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের অধীনে কাজ করে শত শত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। এদের কাজ শুধুমাত্র চোরাচালানের পণ্য সীমান্তের এপার-ওপার করে দেয়া। সীমান্তে বিএসএফের চোখ অনেক সময় ফাঁকি দিয়ে তারা অনুপ্রবেশ করে।

কখনও কখনও ধরা পড়ে বিএসএফের হাতে। তবে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের গডফাদাররা সম সময় থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং ধরা পড়ে তাদের বাহকরা। অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময় বিএসএফ প্রতিরোধ গড়ে তুললেও অনেক সময় সংঘবদ্ধ চোরাচালানির দল বিএসএফের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের জখম করে বেরিয়ে আসে। বিএসএফের উর্ধতন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের এসব তথ্য দিয়ে আরও জানান, তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশী চোরাকারবারিরা সীমান্ত পার হয় বেশি। এক্ষেত্রে ভারতীয় চোরাকারবারিদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তারা (ভারতীয়রা) সীমান্তের কাছাকাছি থাকে আর বাংলাদেশীরা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে সীমান্ত অতিক্রম করে মালামাল নিয়ে চলে যায়।

সরেজমিন ওপারের সীমান্ত পরিদর্শনকালে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টা ২০ মিনিটে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশপরগনা জেলার স্বরূপনগর এলাকায় বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে তিন বাংলাদেশী যুবক। বিএসএফের দাবি, তারা ভারত থেকে গরু নিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময় ধরা পড়েছে।

আটক তিন যুবকের সঙ্গে শনিবার সকালে বিএসএফের ১৪৪ ব্যাটালিয়নের খৈজুড়ি কোম্পানিতে বসে কথা হয়। তারা জানায়, হাবিবউল্লাহ নামে এক গরুর ব্যাপারী তাদের চারটি গরু নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতে পাঠিয়েছে। গরু সীমান্ত পার করে দিতে পারলে তাদের প্রত্যেককে পাঁচ শ’ টাকা করে দেয়া হতো। কিন্তু এর আগেই তারা ধরা পড়ে গেছে।

অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যারা বিভিন্ন সময় আটক হয়, তাদের অধিকাংশই এদের মতো সাধারণ দরিদ্র খেটে খাওয়া পরিবারের যুবক। শুধু টাকার লোভেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে।

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকালে বিএসএফের কলকাতা সেক্টরের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা বিভিন্ন সময় চোরাচালানি সন্দেহে যাদের আটক করেন তাদের অধিকাংশই বড় ধরনের ব্যবসায়ী কিংবা ধনী ব্যক্তি নন। তারা শুধুমাত্র দুই পারের ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের নির্দেশে গরু, ফেনসিডিল এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর ক্ষেত্রে বাহক হিসেবে কাজ করে।

আটক তিনজন ও বিএসএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গরু, ফেনসিডিল, ভোগ্যপণ্য চোরাচালানের ক্ষেত্রে উভয় দেশের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অধীনে কাজ করে শত শত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। বিএসএফের ১৫২ ব্যাটালিয়নের সহকারী কমান্ড্যান্ট বিকাশ পাচারি সাংবাদিকদের বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের চোরাচালানিদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ রয়েছে। মাঝেমধ্যে আমরা ভারতীয়দেরও হামলার শিকার হই।

অভিযোগ রয়েছে, চোরাচালানির সঙ্গে দুই দেশের লোকজন জড়িত থাকলেও বিএসএফ শুধুমাত্র বাংলাদেশীদেরই আটক করে। ভারতীয়দের বিষয়টি তারা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। যদিও বিএসএফ দাবি করে, অপরাধীদের ধরার ক্ষেত্রে সে কোন্ দেশের নাগরিক তা দেখার সুযোগ পায় না তারা।

বিএসএফের ১৪৪ ব্যাটালিয়নের খৈজুড়ি কোম্পানির কমান্ডার জগদীশ সিং বলেন, বিএসএফ চোরাচালানের পণ্যসহ কাউকে ধরলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর ও মামলা করে। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের। আমাদের কাছে তদন্তের দায়িত্ব না থাকায় ভারতীয় কারা জড়িত সেটা জানতে পারি না। আর ভারতীয়রা যেহেতু সীমানা অতিক্রম তেমন করে না, তারা দেশের ভেতরে থাকলে আমরা তাদের ধরতে পারি না।

বিএসএফের কলকাতা সেক্টরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে বৃদ্ধ, নারী-শিশু এবং অসুস্থদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুধু অপরাধের মানসিকতা নিয়ে যেসব পুরুষ সীমানা অতিক্রম করে তাদেরই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: