মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কার সঙ্গে সংলাপ- কি নিয়ে সংলাপ

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন

‘বলতে পার মৃত্যু কি ভয়ঙ্কর? সবাই যখন কথা কইবে, রইবে তুমি নিরুত্তর।’ ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সমাবর্তন বক্তা অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক অমর্ত্য সেন বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সমাবর্তন বর্জন এবং ছাত্রদল ও শিবিরের সমাবর্তন বানচালের ঘোষণার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে অধ্যাপক অমর্ত্য সেন এসেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই। কারণ বিএনপি-জামায়াত বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়েছিল ঢাকায় এলে তাঁর জীবন বিপন্ন হতে পারে। সে প্রেক্ষাপটে মঞ্চে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে অমর্ত্য সেন তাঁর সমাবর্তন বক্তৃতায় উপরের উদ্ধৃতিটি দেন। সংঘাতের চাইতে আলাপ-আলোচনা কিংবা বিতর্ক যে ভাল, তার প্রতিই ইঙ্গিত করছিলেন তিনি। মৃত্যু অবধি বিতর্ক করে যাওয়ার স্বাধীনতা, আনন্দ এবং তার মধ্য দিয়ে কোন সমাধানে পৌঁছানো আধুনিক মানবসভ্যতার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তবে দূর অতীতেও সংলাপ-কথোপকথন যে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাও আমরা জানি। আমাদের বাতিঘর প্রয়াত সরদার ফজলুল করিমের অনুবাদ গ্রন্থ ‘প্লেটোর সংলাপ’ বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে সুযোগ করে দিয়েছিল তা পড়ে দেখবার। শিষ্যদের সঙ্গে সক্রেটিসের আলাপচারিতার কথাও বহুল প্রচারিত।

আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত সংলাপটি হয়েছিল ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের মধ্যে। সংলাপ চলাকালে একদিকে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী গণহত্যা চালিয়ে স্বাধীনতাপ্রত্যাশী বাঙালী জনগোষ্ঠীকে দমন করতে গোপনে প্রস্তুতি নিচ্ছিল, অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সারাদেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষের অধিকাংশই স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন বিসর্জন দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল। সেই সংলাপ ব্যর্থ হয় ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক গণহত্যা শুরু এবং ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে। সংলাপ ব্যর্থ হয়েছিল; কিন্তু নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর পরাজয় ও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল।

’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর অপ্রত্যাশিতভাবে বিএনপি ক্ষমতাসীন হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সফল সংলাপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নবযাত্রা সূচিত হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ক্ষমতার পালাবদল নির্বিঘœ হয় না। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নানাভাবে সংলাপ হলেও তা কোন ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মোর্চার তীব্র আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া বাধ্য হন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে। ক্ষমতায় আসে শেখ হাসিনার সরকার।

হাসিনা সরকারের মেয়াদ শেষে ২০০১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত জয়ী হয়। নির্বিঘেœই ক্ষমতা হস্তান্তর হয়। এরপর ’৯৬ সালের মতোই আবারও স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন খালেদা জিয়ার সরকারের অনীহার মুখে দুই প্রয়াত নেতা আবদুল মানান ভূঁইয়া এবং আবদুল জলিলের মধ্যে দীর্ঘ সংলাপ হলেও তা ব্যর্থ হয়। ফলশ্রুতিতে সেনাচালিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ, দুই নেত্রীর গ্রেফতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সূচিত অভূতপূর্ব ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনের হাত ধরে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে জনগণের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং বিশ্ব জনমত যেখানে নির্বাচন ও নতুন সরকারের প্রতি আস্থা স্থাপনে দ্বিধান্বিত ছিল, গত এক বছরে সেখানে বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। ভারতের মোদি সরকার, আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, জাপান, চীন ও আরব দেশগুলো বৈরিতার পরিবর্তে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। উন্নয়নের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখে সর্বক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে থাকে।

যুদ্ধে পরাজিত পক্ষ ভুল থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে আপন শক্তিকে সংহত করতে পারে। সঠিক নীতি-কৌশল অনুসরণ করে পরবর্তী যুদ্ধে জয়লাভের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারে। ইতোমধ্যেই বিএনপির কয়েকটি নীতিগত বিষয়ে বোধোদয় হওয়ার কথা ছিল। জামায়াতে ইসলামী যে তাদের জন্য কোন আশীর্বাদ নয়, বরং মাথার ওপর জগদ্দল বোঝা, তা বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্র তারেক জিয়া না বুঝলেও দলের নেতাকর্মীদের তা না বোঝার কথা নয়। গত প্রায় এক মাস ধরে অব্যাহত অবরোধের পরও সরকার পতনের কোন সম্ভাবনা দেখা না দিলেও বেগম খালেদা জিয়া সংঘাতের পথ থেকে সরে আসেননি। তাঁর ঘোষিত অবরোধ-হরতালের নির্মম শিকার হয়ে অগ্নিদগ্ধ শিশু-যুবা-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটগুলোতে অপরিসীম যন্ত্রণা নিয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে। পুত্রের মৃত্যুতে গভীর শোকে মুহ্যমান হলেও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের করুণ মৃত্যু বেগম খালেদা জিয়ার কঠিন হৃদয়ে কোন দাগই ফেলতে পারে না। গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকা শহরে হরতালের কোন ঘোষণা না থাকার পরও এতিমদের অর্থ আত্মসাতের মামলায় খালেদা জিয়ার কোর্টে হাজিরা এড়াতে তড়িঘড়ি হরতাল দেয়া হয় নগর বিএনপির পক্ষ থেকে। বিএনপি-জামায়াতের নিজস্ব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার অবশ্য খোলাই থাকে।

এমন মরিয়া পরিস্থিতিতে দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপের তাগিদ দিচ্ছেন বিপর্যস্ত মানুষ ও সুশীল সমাজ। এটা অনেকটা এমন যে, জিম্মিকারীদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে হলেও জিম্মিদশা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করা। সফল কিংবা বিফল যাই হোক, দূর অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীজুড়ে নানা বিরোধ সমাধানে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা উদাহরণ দিয়ে উল্লেখ করেছি। শান্তিপূর্ণ সংলাপ-সমঝোতার জন্য বিবদমান দুই পক্ষকে সেই উপলব্ধিতে আসতে হয় যে, এছাড়া অন্য আর কোন পথ খোলা নেই। কোন কোন ক্ষেত্রে তার জন্য এক পক্ষের পরাজয় বা জেতার কোন সম্ভাবনা প্রায় শূন্য হয়ে পড়া প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। যেমনটা হয়েছিল ১৯৭১ সালে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে এমন উদাহরণ হলো ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণআন্দোলনের বিজয়ের মুখে ক্ষমতাসীন খালেদা জিয়া সরকারের নতি স্বীকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন মেনে নেয়া।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া তেমন পরিস্থিতিতে না যাওয়া পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দেবেন না। তার কতগুলো কারণও আছে। খোদ ক্যান্টনমেন্ট থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর রাষ্ট্রযন্ত্রের শক্তিশালী স্তম্ভ সেনাবাহিনী এবং সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার সক্ষমতা তিনি অনেকটা হারিয়েছেন। রাজনীতিতে কখনও অংশ নেবে না এই মুচলেকা দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দুই পুত্রকে তাদের লুণ্ঠিত অর্থসম্পদসহ দেশের বাইরে পাঠিয়েও তিনি শান্তিতে থাকতে পারেননি। খোদ মার্কিন এফবিআইর উদ্যোগে কোকোর পাচার করা অর্থের কিছু অংশ বাইরে থেকে বাংলাদেশে ফেরত এসেছে। মানি লন্ডারিং মামলায় সাজা মাথায় নিয়ে মালয়েশিয়ায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে তাকে। আরেক পুত্র তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলার রায় হবে সামনে।

বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত অবরোধ-হরতালে জানমালের এই ক্ষতির দায়দায়িত্ব তো তাঁকেই নিতে হবে। তাই আর কালবিলম্ব না করে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে জানিয়ে দেয়া হোক, অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার করুন। তা না হলে দেশ ও জনগণকে বাঁচাতে আপনাকে গ্রেফতার করা হবে। গত বছরের শুরুতে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল জামায়াত-হেফাজতের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার কথা বলেছিল। জানুয়ারি ১৬ তারিখের প্রকাশিত রেসোলিউশনে বলা হয়- ÔThe European Parliament, [...] whereas the BNP opposition is continuing to cooperate with Jamaat-e-Islami and the splinter group Hafeyat-e-Islam, which are regarded as the main instigators of the violence; [...] whereas during and after the elections thousands of citi“ens belonging to vulnerable minority groups, particularly Hindus, have been violently attacked and chased from their homes, reportedly mainly by Jammat-e-Islami militants, for reasons partly linked to the ICT trials, as maû of the prosecution witnesses are Hindus; [...] Believes that, in the interest of BangladeshÕs future, parties having a democratic reputation need to develop a culture of mutual respect; urges the BNP to unequivocally distance itself from Jamaat-e-Islami and Hafeyat-e-Islam; [...] Stresses that parties which turn to terrorist acts should be banned; [...].’

মার্কিন সিভিল ওয়ারের সময় প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন যখন জানতে পারেন মেরিল্যান্ড স্টেটের একটি রেললাইন তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উপড়ে ফেলতে পারে, তিনি তখন একক সিদ্ধান্তে এবং সাময়িকভাবে রিট অব হেবিয়াস কর্পাস স্থগিত করেছিলেন। একেই বলা হয় গণতান্ত্রিক একনায়কত্ব। জনগণের জন্য গণতন্ত্র এবং জনগণের শত্রুদের বিরুদ্ধে একনায়কত্ব। আমেরিকা, ইউরোপ, জাপানে যেখানে কার্যকর গণতন্ত্র আছে, সেসব দেশে কোন রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামায়াতের মতো রাষ্ট্র ও জনগণবিরোধী সন্ত্রাসী অপতৎপরতা চালালে তাদের পরিণতি যা হতো তাই গ্রহণ করা হোক এদের বিরুদ্ধে। পৃথিবীর সকল গণতান্ত্রিক দেশে এ ব্যবস্থাই কার্যকর আছে।

দেশে প্রকৃত ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবিলম্বে সংলাপ শুরু করা প্রয়োজন। ঠিক করে ফেলতে হবে ‘কার সঙ্গে সংলাপ, কি নিয়ে সংলাপ’- সেই প্রশ্নটি। একটি গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশ অর্জন করেছি। এই অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে জন্যই তিনি জাতির পিতা। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অর্জন আমাদের সংবিধান ও চার মূলনীতিÑ গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। এসব মৌলিক বিষয়ে যাঁরা একমত এবং এসব মতের বিরুদ্ধ শক্তি যেমন- জামায়াত ও ধর্মীয় জঙ্গী চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে যাঁরা একমত হবেন, তাঁদের মধ্যে অর্থপূর্ণ সংলাপ শুরু হওয়া অতি জরুরী। খালেদা-তারেক-জামায়াতের নির্ধারক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য ডানপন্থী দলের সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল অংশের সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। মধ্য-ডান-বাম গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো সংলাপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ বহু প্রত্যাশিত জাতীয় ঐকমত্য অর্জনে সমর্থ হবে। গণতন্ত্র ও প্রগতির সম্ভাবনার বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে দ্রুতগতিতে, কিন্তু সুনিশ্চিত পদক্ষেপে।

লেখক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: