হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বয়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫
বয়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান

জানুয়ারি প্রায় শেষ। রবিবার থেকে ভাষার মাস। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি। এ মাসের ২১ তারিখ বুকের তাজা রক্তে নতুন ইতিহাস লিখেছিল বাঙালী। রফিক, শফিক, বরকত জব্বারদের প্রাণ বিসর্জনের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিতে আবারও আসছে ফেব্রুয়ারি। হ্যাঁ, শোকের ফেব্রুয়ারি। একইসঙ্গে গৌরবের। ফেব্রুয়ারিতে যে রক্ত ঝরেছিল সেই রক্তের পথ ধরে বাঙালী রাষ্ট্রভাষা বাংলা পেয়েছিল। স্বাধীন দেশ পেয়েছিল। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সারা বিশ্ব স্মরণ করে বিশেষ এই দিবস। সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি স্ফুরণের মাস। একুশের চেতনায় নতুন করে জেগে ওঠার মাস।

বরাবরের মতোই এ সময় প্রচুর উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এবারও তা-ই হবে। রাজধানীজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রথমেই আসে অমর একুশে গ্রন্থমেলার কথা। মাসব্যাপী মেলা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে যারপর নাই কর্মব্যস্ত বাংলা একাডেমি। মেলা সফল করতে দিন রাত কাজ করছেন প্রকাশকরা। বৃহস্পতিবার মেলার দুই ভেন্যু বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা গেছে, মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন। উভয় ভেন্যুতে অবকাঠামো নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাংলা একাডেমির মঞ্চ মোটামুটি তৈরি। এখানেই রবিবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেভাবেই প্রস্তুত হচ্ছে ভেন্যু। মেলার এ অংশে থাকছে সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর স্টল। বহেরা তলা প্রস্তুত হয়েছে লিটলম্যাগের জন্য। একই দিন সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল এলাকা ঘিরে চলছে স্টল নির্মাণ ও সাজানোর কাজ। বড় বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো সাজাচ্ছে প্যাভিলিয়ন। এখানে ওখানে করাতের শব্দ। হাতুড়ির ঠুকঠাক। সবই ঘোষণা করছে- শুরু হচ্ছে বাঙালীর প্রাণের মেলা।

এদিকে, একুশের বইমেলা মানেই নতুন বই। অসংখ্য বইয়ের প্রকাশনা। সারাবছর যত বই প্রকাশিত হয় তার অধিকাংশই পাওয়া যায় এ সময়ে। ফেব্রুয়ারির মেলা সামনে রেখেই মূল কাজ করেন প্রকাশকরা। কয়েক মাস আগে থেকেই চলছে বই প্রকাশের কাজ। এখন শেষ মুহূর্ত। দম ফেলার সময় নেই। গত কয়েকদিন আরামবাগ, পুরনো ঢাকার প্যারিদাস রোড ও কাঁটাবনের ছাপাখানগুলো ঘুরে দেখা যায়, দিন রাতের কোন পার্থক্য নেই। ঘুম-খাওয়া ভুলে কাজ করছেন শ্রমিকরা। কাঁটাবনের মোহাব্বত প্রিন্টার্সের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, মেলার শেষ দিন পর্যন্ত চলবে বই ছাপা ও বাঁধাইয়ের কাজ।

এবার জাতীয় কবিতা উৎসবের কথা। ২৯তম আয়োজন শুরু হচ্ছে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। আয়োজকÑ জাতীয় কবিতা পরিষদ। বরাবরের মতোই ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি মুখর হয়ে ওঠবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী মিলনায়তন। কবিতা উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ বিভিন্ন দেশ ও ভাষার কবিদের উপস্থিতি। আয়োজকরা জানান, উৎসবে ৮ দেশ থেকে যোগ দেবেন প্রায় ২৫ জন কবি। ভারত থেকে যারা আসছেন, তারা আগেও এসেছেন উৎসবে। বাকিরা প্রথমবারের মতো। এবার মালয়েশিয়া থেকে আসছেন ছয়জন কবি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির রাজ কবি আহমেদ কামেল, আরবাক বিন ওথম্যান, রাজা রাজেশ্বরী সীতা সীথা রামন, ফাজিলাহ হুসাইন, ওমর ওজাইর ও লিলি সিতি সুতান লক্ষন্দর। ইকোয়েডর থেকে আসছেন মারিয়া বারেরা। বেলজিয়াম থেকে যোগ দেবেন জারমেইন ড্রুগেনব্রুট। ডেনমার্ক থেকে আসছেন সিন্ডি লিন ব্রাউন। সুইডেন থেকে আসছেন উত্তর ইউরোপের উল্লেখযোগ্য একটি কবিতার কাগজের সম্পাদক পিটার নেইবার্গ। সুইজারল্যান্ড থেকে আসছেন জার্মাণ ভাষার কবি টবিয়াস। আমেরিকা থেকে আসছেন চিনা ভাষার কবি জ্যামি শ্যু। প্রতিবারের মতোই থাকছেন ভারতবর্ষের কবিরা। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসছেন উৎপল কুমার বসু, আশিস স্যান্যাল, মৃণাল বসু চৌধুরী, রাতুল দেব বর্মণ, সুবোধ সরকার, বীথি চট্টোপাধ্যায়, সুতপা ভট্টাচার্য, সৈয়দ হাশমত জালাল ও শ্রীজাত। আসাম থেকে আসছেন চন্দ্রীমা দত্ত। ত্রিপুরা থেকে যোগ দেবেন জোগমায়া চাকমা।

ছবিমেলার কথা বলে শেষ করা যাক। রাজধানীর ১১ টি ভেন্যুতে এখন চলছে আলোকচিত্রের আন্তর্জাতিক উৎসব। শিল্পকলা একাডেমি প্রধান ভেন্যু। একইসঙ্গে উৎসব চলছে দৃক গ্যালারি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, চারুকলার বকুলতলা, বিউটি বোর্ডিং, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, বৃত্ত আর্টস ট্রাস্ট, ডেইলি স্টার-বেঙ্গল আর্টস প্রিসঙ্কট ও নর্থব্রুক হলে। গ্যালারির বাইরেও চলছে আলোকচিত্রের প্রদর্শনী। রিকশাভ্যানে করে ঢাকার ব্যস্ত রাজপথ, শপিংমল, অফিস, অলি গলি ঘুরে বেড়াচ্ছে ছবিমেলার ছবি। ছবি মেলার এবারের বিষয়বস্তু- অন্তরঙ্গ বা ইন্টিমেসি। বিষয়ের উপর ২২ দেশের ৩০ জনের অধিক শিল্পী কাজ করেছেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানী, রাশিয়া, ইউক্রেন, স্পেন, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ইতালি, ইরারন, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ইজিপ্ট, এস্টোনিয়া ও গুয়াতেমালা। এশিয়ার সবচেয়ে বড় আলোকচিত্র উৎসব চলবে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

৩০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: