কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সাফল্যের প্রত্যাশায় ওবামা

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫
  • নয়াদিল্লীতে মোদির সঙ্গে আলোচনায় জলবায়ু প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতি প্রাধান্য পাবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতিবিষয়ক আলোচনায় অগ্রগতি অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা করছেন। তিনি এ লক্ষ্যে রবিবার তাঁর তিন দিনের ভারত সফর শুরু করেছেন। তবে ওবামার এ সফরকালে মোদির সঙ্গে তাঁর আলোচনার প্রধান প্রধান ইস্যুতে বড় ধরনের নীতিগত সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা নেই। সম্প্রতি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ক্ষুণœ করেছে এমন উত্তেজনার কথা বিবেচনা করলে, এ আলোচনা যে আদৌ হচ্ছে, তাকেই অগ্রগতির এক লক্ষণ বলে দেখা হচ্ছে। খবর ইয়াহুনিউজের

ওবামা রবিবার সকালে ভারতের কর্মব্যস্ত রাজধানী নয়াদিল্লীতে পৌঁছান। এই প্রথম কোন আমেরিকান নেতা প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব পালনকালে দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরে এলেন। মার্কিন নেতাদের মধ্যে ওবামাকেই প্রথম ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হলো। ভারতের গণতান্ত্রিক সংবিধান বিধিবদ্ধ হওয়ায় বার্ষিকীতে ২৬ জানুয়ারি দিবসটি উদযাপিত হবে।

ওই অনুষ্ঠানের আগে ওবামা মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দেবেন। তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধেও পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলেও কথা রয়েছে।

কিন্তু একটি পদক্ষেপ ওবামার সফরের ঔজ্জ্বল্যকে কিছুটা ক্ষুণœ করতে পারে। প্রেসিডেন্ট আগ্রার তাজমহল দেখার পরিকল্পনা বাতিল করছেন বলে ওয়াশিংটন থেকে তাঁর রওনা হওয়ার কিছু আগে হোয়াইট হাউস ঘোষণা করে। প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি মঙ্গলবার ওই বিখ্যাত শ্বেতপাথরের স্মৃতিসৌধ দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু এর বদলে ওবামা ও মিশেল বাদশা আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর রাজপরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে সৌদি আরব যাবেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপত্র হোশ আর্নেস্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট এ সফরকালে আগ্রা যেতে অপারগ হবেন বলে দুঃখ প্রকাশ করছেন।

২০১৩ সালে ভারত যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। সেই বছর নিউইয়র্কে ভারতের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী ঘোবড়াগাড়কে গ্রেফতার করে তাঁর দেহতল্লাশি করা হয়। তিনি তাঁর পরিচারিকাকে যুক্তরাষ্ট্র আনতে ভিসা ফরমে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন এবং তাঁকে ন্যূনতম পারিশ্রমিকের চেয়ে কম প্রদান করতেন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘোবড়াগাড়ের প্রতি আচরণ নয়াদিল্লীতে ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং ভারত মার্কিন কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে পাল্টাব্যবস্থা নেয়।

গত মে মাসে মোদি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই সম্পর্ক ক্রমশ উন্নত হতে থাকে। তিনি ও ওবামা গত বছরের শেষ দিকে ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো মিলিত হন। উভয় দেশের কর্মকর্তারা দ্রুত এক সুষ্ঠু সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বলে জানান। এটি আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের কাছে কিছুটা বিস্ময়কর বলেই মনে হয়। কারণ অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মোদির সম্পর্ক কঠিনই ছিল। তাঁকে ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। এর তিন বছর আগে ভারতের গুজরাট রাজ্যে ধর্মীয় দাঙ্গায় ১ হাজারেরও বেশি মুসলিম নিহত হয়। তখন তিনি ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গেও ওবামার ভাল সম্পর্ক ছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা হতাশা ব্যক্ত করেন যে, তাঁদের ব্যক্তিগত উষ্ণ সম্পর্ক নীতিগত সাফল্য বয়ে আনতে পারেনি।

ভারতকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে রাজি করানোতে অগ্রগতি অর্জন করাই মোদির সঙ্গে ওবামার আলোচ্যসূচীর এক বড় বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র নবেম্বরে চীনের সঙ্গে আকস্মিকভাবে যে জলবায়ু চুক্তি সই করেছিল, তা অনুরূপ পদক্ষেপ নিতে ভারতকে উৎসাহিত করতে পারে বলে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা আশা করছেন। তবে ওবামার এ সফরকালে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায় না।

ওবমা পরমাণু উপকরণ সরবরাহকারীদের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইনে পরিবর্তন আনতেও মোদিকে চাপ দেবেন বলে মনে হয়। এ আইনের কারণে আমেরিকান কোম্পানিগুলো ২০০৮ সালের ঐতিহাসিক ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পরমাণু চুক্তির সুযোগ নেয়া থেকে বিরত রয়েছে।

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫

২৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: