কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

দর্শনার্থীশূন্য রাজশাহীর বিনোদন কেন্দ্র

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫
  • লাগাতার অবরোধে বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ টানা অবরোধের কারণে মুখথুবড়ে পড়েছে রাজশাহীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। অবরোধ ও হরতালে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি শূন্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান, জিয়া শিশুপার্কসহ বিভিন্ন স্পট। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রাজশাহীর পর্যটন খাত। এসব বিনোদন স্পটগুলোতে এখন আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে। বিনোদনকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে।

রাজশাহী নগরীর প্রধান বিনোদন কেন্দ্রের মধ্যে শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান, জিয়া শিশুপার্ক, ৪-৫ কিলোমিটার লম্বা পদ্মা নদীর পাড়, ভদ্রা পার্ক, বরেন্দ্র জাদুঘর অন্যতম। তবে অবরোধের কারণে এগুলো দর্শনার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে।

শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যানে কর্মরত প্রাণী চিকিৎসক ডাঃ ফরহাদ জানান, বর্তমানে পিকনিকের মৌসুম। এ মৌসুমে রাজনৈতিক পরিবেশ ভাল থাকালে ২৭ থেকে ২৮টি পার্টিকে পিকনিক স্পট দিতে হতো। অনেক সময় পিকনিক স্পট ভাগ করে দিতে দায়িত্বে থাকা মানুষদের হিমশিম খেতে হয়। তবে বর্তমানে কোন পিকনিক পার্টি আসছে না। দর্শনার্থীও আসছে না।

কেন্দ্রীয় উদ্যানে কর্মরত এক কর্মচারী জানান, পিকনিক মৌসুমে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়। তবে অবরোধের কারণে উদ্যানের আয় একেবারেই কমে গেছে। গত ১৭ দিনে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় উদ্যানটি। রাজশাহীতে শিশুদের বিনোদনের অন্যতম স্থান জিয়া শিশুপার্ক। এখানকার সুপারভাইজার আফাজ উদ্দিন জানান, প্রতিদিন শিশুপার্কটিতে ১৫০ থেকে ২০০টির বেশি টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। সাধারণ সময়ে শিশুপার্কে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টিকিট বিক্রি হয়ে থাকে। প্রধান ওই দুটি বিনোদন কেন্দ্র ছাড়াও রাজশাহীবাসীর প্রধান বিনোদনের জায়গা হচ্ছে পদ্মা নদীর পাড়। বিনোদনের এ জায়গাটিকে ঘিরে প্রায় এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ পরিবার চলে। কেউ ভাজা বিক্রেতা, কেউ চটপটি, পেয়ারা, বাদাম, ফুচকা বিক্রি করে পরিবার চালায়। আবার কেউ নৌকায় ভ্রমণের কাজ করে যে আয় করে তা দিয়ে পরিবার চালায়। পদ্মার পাড়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষ কমে যাওয়ার কারণে তাদের মতো মেহনতি মানুষের আয়ও কমে এসেছে। মহানগরীর পদ্মার পাড় এলাকার চটপটি বিক্রেতা সাজেদুর ইসলাম জানান, বিকেল নদীর পাড়ে প্রচুর মানুষ হতো। চারদিকে মারামারি হওয়ায় মানুষের মনে ভয় ঢুকে গেছে। সে কারণে মানুষ বেড়াতে আসা ছেড়ে দিয়েছে। এখন কোন দর্শনার্থী আসছে না।

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫

২৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: