কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

পূর্ব ইউরোপে রুশ হস্তক্ষেপ

প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর ২০১৪
  • মেরকেলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

জার্মানির চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল অভিযোগ করে বলেছেন, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে রাশিয়া। এই দেশগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের সামরিক জোটভুক্ত দেশগুলোকে রক্ষায় ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। খবর বিবিসি, গার্ডিয়ান ও টেলিগ্রাফের।

জার্মান সংবাদপত্র ডাই ভেল্ট এ্যাম সোনট্যাগকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মেরকেল বলেছেন, আমাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী তিন দেশ মালদোভা, জর্জিয়া ও ইউক্রেনে সমস্যা সৃষ্টি করছে রাশিয়া। দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ জিইয়ে রাখা বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলগুলোকে নির্দেশ করে তিনি এ কথা বলেন। এ এলাকাগুলোর রয়েছে আবখাজিয়া ও দক্ষিণ ওশেটিয়া এবং একই সঙ্গে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল। তিনি বলেন, এই তিনটি দেশই ইইউয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং তারা ইইউয়ের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাশিয়া এই সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে সন্ধিগ্ধ। তারা এই দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কারণ এক সময় তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। গত মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন জর্জিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল আবখাজাইয়ের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ন্যাটো ও ইইউ। মালদোভার ইইউমুখী প্রবণতায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দেশটি মালদোভা থেকে মদ, শাকসবজি ও মাংস আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। সাক্ষাতকারে মেরকেল আরও অভিযোগ করেছেন, এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য পশ্চিমাঞ্চলীয় বলকান দেশগুলোকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল করার চেষ্টা করছে মস্কো।

তিনি বলেন, তিনি নিশ্চিত রাশিয়ার কর্মকা-ে ইউরোপ যে সাধারণ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তা সঠিক। ইউক্রেন ও জর্জিয়াকে ন্যাটোর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করায় তার সুপারিশের সিদ্ধান্তকে তিনি পুনরায় সমর্থন করেছেন। ২০০৮ সালে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এ সুপারিশ করেছিলেন। তবে পূর্ব ইউরোপের সদস্য দেশগুলোকে রক্ষায় ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন মেরকেল। তিনি বলেছেন, বাল্টিক অঞ্চলের যুদ্ধ সম্পর্কে কথা বলার কোন কারণ নেই। তবে ন্যাটো চুক্তির ৫নং ধারায় বলা হয়েছে, জোটের কোন সদস্যের ওপর হামলা হলে পুরো জোট তার পাশে দাঁড়াবে। এক বছর আগে ইউক্রেন সমস্যার শুরু হয় যখন ওই সময়ের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে ইইউয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না করতে পুতিন দেড় হাজার কোটি ডলার ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করেছিলেন এবং তিনি এই চুক্তি আর করেননি।

এমন সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীতে কিয়েভে ইইউপন্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভ করে এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর কয়েক সপ্তাহ পর রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয় এবং রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের নিয়স্ত্রণ নিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

এ সমস্যা রাশিয়া ও ইউক্রেনের পশ্চিমা সমর্থকদের মধ্যে বিভেদ দেখা দিয়েছে।

প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর ২০১৪

০৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: