কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ধর্মসভার নামে যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে প্রচারণা ॥ প্রতিবাদ করায় এমপিকে লাঞ্ছিত কর

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ ধর্মসভার নামে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে জনমত সৃষ্টি, মহিলাদের জঙ্গী প্রশিক্ষণে উদ্বুদ্ধকরণ এবং সরকারবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী-রাজীবপুর) আসনের এমপি রুহুল আমিনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নয়াচর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সুপারসহ ৫ শিক্ষককে বৃহস্পতিবার শোকজ করেছে ম্যানেজিং কমিটি।

নয়াচর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল বারেক জানান, রাজীবপুর উপজেলার নয়াচর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে মঙ্গলবার রাতে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আনোয়ার হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন রংপুর বাসটার্মিনাল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রশীদ। রাজিবপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা লতিফসহ বেশ কয়েক বক্তা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে জনমত সৃষ্টি, মহিলাদের জঙ্গী প্রশিক্ষণে উদ্বুদ্ধকরণ এবং সরকারবিরোধী বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথি ধর্মসভায় রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ‘নারায়ে তকবির’ বলে এমপির ওপর চড়াও হয়, তাকে লাঞ্ছিত করে। এ অবস্থায় ঢুসমারী থানা পুলিশ এমপিকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করে নয়াচর বাজারের বকুলতলায় টাঙ্গানো প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে।

এমপি রুহুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, ধর্মসভায় বক্তারা যখন একের পর এক বক্তব্যে ও গজলের (ধর্মীয় গান) মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে জনমত সৃষ্টির চেষ্টা, মহিলাদের জঙ্গী প্রশিক্ষণে উদ্বুদ্ধকরণ এবং বর্তমান সরকারকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেন। আমি দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশে বললাম এটা ধর্মসভা। এখানে কেউ রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন না। প্রধান বক্তাকে অনুরোধ করা হয় যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে রাজনৈতিক কোন বক্তব্য না দেয়ার জন্য। যারা ওয়াজ করবেন কেউ রাজনৈতিক কথাবার্তা বলবেন না।

এমপি রুহুল আমিন বলেন, প্রধান অতিথি হিসেবে আমার বক্তব্যে আমি অন্যান্য ব্যক্তির দেয়া বক্তব্যে সাঈদীকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আদালতের রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেই। এছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরোধিতা করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি, দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে বর্তমান সরকারের উদ্যোগকে প্রশংসা করায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে ‘নারায়ে তকবির’ বলে চিৎকার শুরু করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আমি সভা মঞ্চ ত্যাগ করি। ওরা আমার গাড়ির দিকে ছুটে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধর্মসভার আয়োজক ও নয়াচর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার জানা ছিল না জামায়াত-শিবির ধর্মসভায় এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে।

নয়াচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ জানান, এমপি রুহুল আমিন সভা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী সমর্থকরা নয়াচর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় তারা নয়াচর আ’লীগ অফিসও ভাংচুর করে। নয়াচর বকুলতলায় টাঙ্গানো প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ঢুসমারা থানার ওসির দায়িত্বে থাকা এসআই আবু মুসা জানান, এমপি স্যারের কোন ক্ষতি হয়নি। বিশৃঙ্খলার আগেই তাঁকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের কথা স্বীকার করেন তিনি। তবে ওই ঘটনায় কোন পক্ষ অভিযোগ দেয়নি।

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪

০৭/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: