ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

৭৯ কোটি পাচার হয়েছে সিঙ্গাপুরে

অশ্লীলতা ছড়িয়ে ১০৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিগো

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৩৪, ৫ অক্টোবর ২০২২; আপডেট: ১৬:৫৮, ৬ অক্টোবর ২০২২

অশ্লীলতা ছড়িয়ে ১০৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিগো

অশ্লীলতা ছড়িয়ে ১০৮ কোটি টাকা হাতিয়ে

এবার চীনভিত্তিক ভিডিও শেয়ারিং এ্যাপ বিগো টেকনোলজি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অশ্লীলতা ছড়িয়ে ১০৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ৭৯ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে সিঙ্গাপুরে। রাজধানীর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

এ বিষয়ে সিআইডি জানিয়েছে, বিগো বাংলা লিমিটেড নামে বাংলাদেশে এ এ্যাপটি কার্যক্রম শুরু করে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মূলত লাইভ চ্যাট ও ভিডিও চ্যাটভিত্তিক কার্যক্রম চালায় বিগো। অশ্লীলতা ছড়িয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশী ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দেড় বছরে প্রতারণার মাধ্যমে ১০৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে ৭৯ কোটি টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেছে বিগো।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এ জন্য বিগো টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক চীনা নাগরিক ইয়াওজিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা করেছে সিআইডি। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিগো বাংলা লিমিটেড, বিগো বাংলার কর্মী এসএম নাজমুল হক, আরিফ হোসেন, মুনসুন হোল্ডিং নামের প্রতিষ্ঠান।

সিআইডির করা দ্বিতীয় মামলায় চীনা নাগরিক ও বিগোর এমডি ইয়াওজির বিরুদ্ধে ৭৯ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, পাচারের উদ্দেশ্যে এ অর্থ সংগ্রহে বিগো টেকনোলজিকে সহযোগিতা করেছে মুনসুন হোল্ডিং লিমিটেড। মূলত মুনসুন হোল্ডিংয়ের নামে নেয়া পেমেন্ট গেটওয়ে ‘সূর্য পে’র সাহায্য নিয়ে বিপুল এ অর্থ আত্মসাত করে বিগো টেকনোলজি।  বিগো এ্যাপে লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়ানোর অভিযোগে গত বছরের জুনে চীনা নাগরিক ইয়াওজিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। পরে তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। ওই মামলার অন্য চার আসামি হলেন- বিগো বাংলার কর্মী মোস্তাফা সাইফ রেজা, আরিফ হোসেন, এস এম নাজমুল হক ও আসমা উল হুসনা সেজুতী। তারা সবাই এখন কারাগারে।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা দিলেও বিগো লাইভ মূলত লাইভ চ্যাট ও ভিডিও চ্যাটভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। কিছুদিন পরই প্রতিষ্ঠানটি ভার্চুয়াল ডায়মন্ড ও বিনস বিক্রির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অর্থ হাতিয়ে নিতে শুরু করে। এরপর শুরু হয় বিগো ও লাইকির এ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাত। এক্ষেত্রে এমএফএস, ব্যাংক এ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পর সবশেষে সূর্য পে নামের পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস ব্যবহার করা হয়। সব মিলিয়ে দেড় বছরে তারা হাতিয়ে নেয় ১০৮ কোটি টাকা।

রাজধানীর পল্টন থানার পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলার তদন্তে নেমে অর্থ আত্মসাত ও পরবর্তীসময়ে সেই অর্থ সিঙ্গাপুরে সরিয়ে নেয়ার তথ্য পায় পুলিশ। পরে মামলাটি তদন্ত শুরু করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পরিকল্পিতভাবে অর্থ আত্মসাত ও পাচারের অভিযোগে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত ভার্চুয়াল ডায়মন্ড ও বিনস বিক্রির বিপরীতে এ্যাপটির বাংলাদেশী ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে এক কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ৮০৬ টাকা আয় করে বিগো লাইভ টেকনোলজি। এ অর্থ জমা হয় একটি বেসরকারী ব্যাংকের গাজীপুর শাখার হিসাব নম্বরে, যা বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে।

ওই ব্যাংক হিসাবে স্থিতি রয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৪৭০ টাকা। বাকি এক কোটি ২৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৬ টাকা বিনস রিসেলার নাজমুল হক দেন চীনা নাগরিক ইয়াও জিকে। একই সময়ের মধ্যে আরও দুটি বেসরকারী ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে বিগো বাংলা লিমিটেড ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ৭৬ টাকা সংগ্রহ করে। এ ছাড়া ডায়মন্ড ও বিনস রিসেলার এস এম নাজমুল হকের ১২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৪৭ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার ৮১২ টাকা সংগ্রহ করে বিগো বাংলা লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সূর্য পে’ তাদের গেটওয়ে সেবা সরবরাহ করেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোহেল রানা। তিনি বলেন, ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়ে সুবিধাও নেয় বিগো বাংলা লিমিটেড। এক্ষেত্রে তাদের সূর্য পে নামের সূর্যমুখী লিমিটেডের পেমেন্ট গেটওয়ে পাইয়ে দেয় দেশী প্রতিষ্ঠান মুনসুন হোল্ডিং লিমিটেড। তারা মূলত নিজেদের নামে পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস নিয়ে সেটি বিগো বাংলা লিমিটেডকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়।

monarchmart
monarchmart