রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল ॥ স্পীকার

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫, ০১:০৮ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে এখন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের এমন স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের মর্যাদা অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের মেধা, ত্যাগ ও শ্রমের বিনিময়ে এসেছে এ অর্জন। খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হবে।

হীরকজয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দি খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি: (দি সিসিসিইউলি), ঢাকা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পীকার একথা বলেন। প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট মার্কুজ গমেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন এমপি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ধীরাজ কুমার নাথ, সমবায় অধিদফতরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মোঃ মফিজুল ইসলাম, দি সেন্ট্রাল এ্যাসোসিয়েশন অব খ্রিস্টান কো-অপারেটিভস (কাক্কো) লিমিটেডের চেয়ারম্যান নির্মল রোজারিও প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দি সিসিসিইউলি, ঢাকার সেক্রেটারি ইগ্নাসিওস হেমন্ত কোড়াইয়া। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রাখার জন্য সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন এমপি, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, খ্যাতিমান সুরকার লিটন অধিকারী রিন্টু, লেখক ও কলামিস্ট সঞ্জীব দ্রং, মাই টিভির সিনিয়র রিপোর্টার প্যাট্রিক ডি কস্তা, দৈনিক জনকণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার নিখিল মানখিনসহ ৩৯ জনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

আলোচনায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধে বড় অবদান রেখেছে বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়। এ সমাজ থেকে কোন স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার ছিল জন্মেনি। দেশের সার্বিক প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে সমবায় সমিতির ওপর আরোপিত শতকরা ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনা করা হবে। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন বলেন, সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। এখানে সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান রয়েছে। দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়। আর এ সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে সমবায় সমিতির ওপর আরোপিত শতকরা ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ খ্রিস্টান এ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্মল রোজারিও বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে সমবায়কে মালিকানার দ্বিতীয় খাত হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে গেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সংবিধানে সমবায়কে এমন স্বীকৃতি প্রদানের নজির খুবই বিরল। সমবায় দেশের সকল শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে সারাদেশে নিবন্ধিত মোট সমবায় সমিতির সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। এর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের সমবায়ের সংখ্যা ২২টি। সমবায় সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় এক কোটি। সমিতিগুলোর কার্যকরি মূলধনের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সমবায় সমিতিগুলো ‘কর’ এর আওতামুক্ত ছিল। কোন ধরনের বৈদেশিক ঋণগ্রহণ ছাড়া সাধারণ সদস্য-সদস্যাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমানত গঠন ও বিনিয়োগ করে স্বল্প লাভের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হলে সমিতিগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। প্রায় ১ কোটি সদস্য-সদস্যা ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হাজার হাজার কর্মচারী চাকরি হারাবে। গ্রামীণ জনপদে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হবে। তাই সমবায় সমিতিগুলো রক্ষা ও কোটি সমবায়ীর স্বার্থে এই করারোপ প্রত্যাহার করা দরকার।

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫, ০১:০৮ এ. এম.

০৪/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: