আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

লারা ও তামান্না

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

ফারিয়া লারা: সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের কন্যা পরিচয়ে পরিচিত হতে চাননি ফারিয়া লারা। স্বমহিমায় ও পরিচয়ে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। বৈমানিক হয়ে করতে চেয়েছিলেন আকাশ জয়। সব প্রস্তুতি চলছিল। প্রশিক্ষণও শুরু হয়। কিন্তু বিধি বাম! নিয়তি তাকে নিয়ে যায় মৃত্যুর ওপারে। বিমান প্রশিক্ষণকালীন ঢাকার আকাশেই বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান ১৯৯৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পোস্তখোলায়। ডায়রীতে তিনি লিখেছিলেন, জীবন যেখানে থমকে যায়। তাই হলো। জীবন তার থমকে গেছে আকাশে।

তামান্না রহমান : শৈশব থেকেই মেয়েটি স্বপ্ন দেখত পাইলট হওয়ার। কৃতিত্বের সঙ্গে ‘এ’ লেভেল এবং ‘ও’ লেভেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বাবা মা চেয়েছিলেন মেয়েটি যেন, ডাক্তার হয়। কিন্তু যার হৃদয়ে আকাশে ওড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন, তাকে কি দমিয়ে রাখা যায়? তামান্না রহমান হৃদিকেও দমিয়ে রাখা যায়নি। বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমিতে গ্রাউন্ড ট্রেনিং শেষ করে হৃদি শুরু করে দিয়েছিলেন ফ্লাইং প্রশিক্ষণ। পাইলট হতে বেশি দূর বাকী ছিল না। কিন্তু তা হলো না। প্রশিক্ষণ বিমানটি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তামান্না।

নিখোঁজ তাহমিদ

২৯ জুন চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর এলাকায় অর্থাৎ পতেঙ্গা মোহনা এলাকা থেকে প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল দূরে বহির্নোঙ্গরের ব্র্যাভো পয়েন্টে উত্তাল সাগরে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান (এফ-৭)। নিখোঁজ রয়েছেন বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লে. চৌধুরী তাহমিদ কাদের রুম্মান। তিনি বিমানবাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিলেন সকাল সাড়ে ১০টায়। চল্লিশ মিনিট পর থেকেই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল নিয়ন্ত্রণ কক্ষের এবং তারপরেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয় সেখানে অয়েল ট্যাঙ্কারসহ দুটি জাহাজ ছিল। ভাগ্য ভাল যে ট্যাঙ্কারের সঙ্গে জাহাজের সংঘর্ষ লাগেনি। লাগলে পরিস্থিতি অনেক ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠত। উদ্ধারকারীরা অনেক চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে পারেননি বিমানের পাইলট তাহমিদকে। পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন সবাই তাহমিদের খোঁজ সংবাদ পাওয়ার।

আন্দ্রিয়াজ লুবিৎজ

আন্দ্রিয়াজ লুবিৎজ। বিশ্বজুড়ে সমালোচিত এক নাম। স্বপ্ন না পূরণ হওয়ার বেদনায় বিষণœ হয়ে গিয়েছিল লুবিৎজের জগত-সংসার। বিষণœতা তাকে করে তুলেছিল মানসিক রোগী। ডাক্তার তাকে বিমানের জন্য আনফিট বললেও, কৌশলে তা লুকিয়ে কো-পাইলট হিসেবে ঠিকই জার্মানউইংয়ের বিমানে চড়েছিলেন। এবং সুযোগ বুঝে ঠিকই আল্পসে বিমানটিকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছেন। তার এই বিধ্বংসী সিদ্ধান্তে মারা যায় দেড়শজন মানুষ। জামান উইং লুবিৎজের মতো একজন মানসিক রোগীকে ভালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে কো-পাইলট হিসেবে নির্বাচিত করেছে, এর দায়ভার তারা এড়াতে পারে না।

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

০৩/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: