আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মৌসুমী বায়ু ও নিম্নচাপে সারাদেশে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫
  • কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুটে নৌযান চলাচল ব্যাহত
  • মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপরে
  • ভোলায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত
  • সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩নং সতর্ক সঙ্কেত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা ও নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানীসহ সারাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারও সারাদেশে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হয়েছে। গত দু’দিন ধরে রাজধানীতে দিনভর হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌ-রুটে ফেরিসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। মঙ্গলবার দেশের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। ভোলা জেলার ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। দেশের পর্যবেক্ষণাধীন ৮৪টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে মঙ্গলবার ৩৪টির পানি বৃদ্ধি এবং ৪৫টির পানি হ্রাস পায়। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় একটি নদীর পানি। আজ বুধবারও দেশে বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিহার ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছিল। আজ বুধবার রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, কখনও থেমে থেমে, কখনও মুষলধারে বৃষ্টিতে মঙ্গলবার নগরীতে ব্যাহত হয় কর্ম-ব্যস্ত জনজীবন। এদিন অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির সঙ্গে বাতাস থাকায় বন্দর বহির্নোঙ্গরে পণ্য লাইটারিং ব্যাহত হয়। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নদীপথে পণ্য পরিবহনও যথেষ্ট বিঘিœত হয়। মঙ্গলবার সকালে কিছুক্ষণের জন্য বৃষ্টি না থাকায় মানুষ ঘর ছেড়ে বের হয়। তবে বেলা এগারোটার দিকে প্রবলভাবে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় অনেক সড়কই পানির নিচে চলে যায়। শিশু কিশোরদের মধ্যে যারা স্কুলে যেতে পেরেছিল, তাদের অনেকেই পথে বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়ে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি সত্ত্বে¡ও বার্থে কন্টেনার উঠানামা স্বাভাবিক ছিল। তবে বহির্নোঙ্গরে পণ্য লাইটারিং ব্যাহত হয়। সাগরে স্রোত এবং বাতাসের তীব্রতা থাকায় লাইটার জাহাজগুলো মাদার ভেসেলের পাশে ভিড়তে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। বন্দর লাইটারেজ ঠিকাদার সমিতি সূত্রে জানা যায়, সাগর উত্তাল থাকায় এবং এর সঙ্গে প্রচ- বাতাস থাকায় প্রবাহিত হওয়ায় লাইটার জাহাজগুলোর চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এ জাহাজগুলোর পক্ষে বহির্নোঙ্গর অভিমুখে যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জাহাজগুলোকে কর্ণফুলীর প্রোতাশ্রয়ে নিরাপদে রাখা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর থেকে জানান, বৈরী আবহাওয়ায় পদ্মা নদী উত্তাল থাকার কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরিসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তিন দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে তীব্র স্রোতে ফেরিসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে কাওড়াকান্দি ঘাটে দেড় শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ।

বিআইডবিউটিসির কাওড়াকান্দি ঘাট সূত্রে জানা গেছে, গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকায় পদ্মা নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। প্রবল ঢেউয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘূর্ণিস্রোত থাকায় ফেরিসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিআইডবিউটিসির কাওড়াকান্দি ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুল বাতেন মিঞা জানান, পদ্মার কবুতরখোলা চ্যানেল থেকে কাঁঠালবাড়ী টার্নিং পয়েন্ট পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার নদী পথে দেখা দিয়েছে প্রবল ঘূর্ণিস্রোত। ফলে এই টার্নিং পয়েন্ট অতিক্রম করতে ফেরিগুলোকে বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। তাছাড়া দুর্ঘটনা এড়াতে ডাম্প ফেরি সোমবার প্রায় ৬ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এদিকে পদ্মায় স্রোত বেশি থাকায় সাধারণ যাত্রীরা লঞ্চ ও স্পিডবোট এড়িয়ে ফেরিতে পারাপার হচ্ছে।

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫

২৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: