রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সুখ-দুঃখের ক্যাম্পাস জীবন

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বকালীন সময়। পেরিয়ে গেল প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছর। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেকটা আলাদা। ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে সবুজের সমাহার, যেন শ্যামল বাংলার অধিক শ্যামল অংশটি এখানে। পুরো ক্যাম্পাসের ভূমিতেও রয়েছে বিচিত্রতা। কোথাও উঁচু, আবার কোথও নিচু কিংবা সমতল। রয়েছে ছোট ছোট পাহাড়ের মতো বেশকিছু উঁচু জায়গা। লাল মৃত্তিকার এ ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও নৈসর্গিক দৃশ্য খুবই চমৎকার। ক্যাম্পাসের চারপাশে রয়েছে লোকপ্রশাসন কেন্দ্র, ডেইরি ফার্ম আর স্মৃতিসৌধের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এসবের মাঝে আঁকাবাঁকা রাস্তা আর সবুজে ঘেরা ৭০০ একরের আবাসিক ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের সর্বত্র রয়েছে নানা জাতের বৃক্ষ আর বাহারি ফুলের প্রাচুর্য। রয়েছে নানা জাতের মৌসুমি ফলের গাছ। সব ঋতুতেই কোন না কোন মৌসুমি ফল পাওয়া যায় এই ক্যাম্পাসে। শীতকালে আসে অতিথি পাখির ঝাঁক, যাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয় ক্যাম্পাস। এছাড়াও রয়েছে প্রজাপতির মেলা আর নানা রকম আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন।

যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি সবার থেকে আলাদা, তা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ১৩টি আবাসিক হল, যার মধ্যে ছেলেদের জন্য ৭টি এবং মেয়েদের জন্য ৬টি হল। ছাত্রদের হলগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ মীর মশাররফ হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আলবেরুনী, শহীদ সালাম বরকত, আ ফ ম কামাল উদ্দিন, মওলানা ভাসানী এবং শহীদ রফিক জব্বার হল। অন্যদিকে ছাত্রীদের জন্য রয়েছেÑ ফজিলাতুন্নেসা, নওয়াব ফয়জুন্নেসা, প্রীতিলতা, জাহানারা ইমাম, শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া হল।

অসম্পূর্ণ আবাসিকতা ॥ সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনও পুরোপুরি আবাসিক হয়নি। তবুও পরিচিতি রয়েছে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি আবাসিক সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রতি বছর ভর্তি হয় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু অনেকেরই সে স্বপ্ন আর বাস্তবতা পায় না। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য হলে সিট বরাদ্দ থাকলেও তা শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। তাদের জন্য রয়েছে ঢাকা টু ক্যাম্পাস বাসের ব্যবস্থা। সেশন জ্যাম আর হল পরিচালনার ত্রুটির কারণে তৈরি হয় সিট সঙ্কটের। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের থাকতে হয় গণরুমে। যেখানে একই রুমে ৮০ থেকে ১০০ জনের বসবাস। দ্বিতীয় বর্ষে উঠেও সিট পায় না অনেকে। ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় হল মীর মশাররফ হোসেন হল। এখানেও রয়েছে সিট সমস্যা। দু’জনের এক রুমে ১৬ জন করে থাকতে হচ্ছে বলে জানান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জনি, রাহুল, সামিউল আর তুহিন। ভাবতে অবাক লাগে, এখানে একজনের রুমে ছয়জন আর দু’জনের রুমে ১৪ থেকে ১৬ জন করে থাকতে হয়। গণরুমে রয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। অতীতে র‌্যাগিং আতঙ্ক থাকলেও এখন আর তা নেই। তবে মেঝেতে বিছানা পেতে থাকতে হচ্ছে প্রতিটি হলের গণরুমবাসী শিক্ষার্থীদের। অনিচ্ছা সত্ত্বেও গণরুমে থাকছেন অনেকে। কারণ গণরুমে থাকলে আগে সিট পাওয়া যায়। আবার প্রীতম, জাহিদ, অমি, নয়ন আর মুহিবের কাছে গণরুম হলো হলের প্রাণকেন্দ্র। এখানে থাকায় কষ্ট হলেও রয়েছে আড্ডা, গান আর নানা রকম আনন্দ। সবার সঙ্গে পরিচিত হওয়া আর একসঙ্গে থাকা হয় শুধু গণরুমেই।

জহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাস্তবায়ন করার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। তবে আশার কথা হলো, ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য দুটি নতুন হল নির্মাণের কথা রয়েছে।

এতসব সমস্যা আর নানা রকম ব্যস্ততা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন চলে যায়। চলে নানা রকম স্বপ্ন দেখা। সবাই ভালবাসে এই ক্যাম্পাসকে। ভালবাসে মুক্তমঞ্চ আর দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনারকে। স্বপ্ন রয়েছে সফলতার শীর্ষে আরোহণের।

মো. এুসা

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৫

২১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: