কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কবিতার সম্ভাবনায় জাগো

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫

জাগো বাঙালী জাগো, কবিতার সম্ভাবনায় জাগো। কবিতার রূপ রস গন্ধে জাগো। কাব্যচর্চা, কাব্য সাধনায় নিজেকে জানো। শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্যের কোথায় নেই কবিতার সম্ভাবনা। একজন মানুষের সমগ্র চেতনাই কবিতা। একটি জাতি, রাষ্ট্র তথা গোটাবিশ্বকে প্রকাশ করা যায় একটি কবিতার মাধ্যমে। এক কথায় কবিতা হলো সমস্ত বিশ্বের সারমর্ম।

সময়ের সঙ্কটাপূর্ণ সন্ধিক্ষণ মোকাবেলায় কবিতা হয়ে ওঠে বিপ্লবী কণ্ঠে উত্তরণের প্রেরণা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে। জাগরণ ঘটায় চেনার, খুলে দেয় সম্ভাবনার দ্বার। আত্মবিলুপ্তির বলয় থেকে দেয় পরিত্রাণ, বৈষয়িক জঞ্জাল থেকে দেয় মুক্তি। তাই কবিতার মাধ্যমে সুখী ও সহজ-সরল জীবনে অভ্যস্ত হয়ে মানবিকভিত্তিক সমাজ গঠনের কোন বিকল্প নেই।

পারস্যের জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ও গাণিতিক ওমর খাইয়াম আজ বিশ্ব বিশ্রুত কবি ও দার্শনিক হিসেবে পরিচিত। তিনি বিনোদনের জন্য বিজ্ঞানচর্চার ফাঁকে ফাঁকে কাব্যচর্চা করতেন। অবসর যাপন করতেন কবিতা লিখে। চিলির কবি পাবলো নেরুদা যিনি আজীবন নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের মুখ চেয়ে মুমূর্ষু সমাজের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। পৃথিবী থেকে সাম্রাজ্যবাদকে নির্মূল করতে কলমের মুখ থেকে বাড়িয়েছেন ফোঁটায় ফোঁটায় রক্ত। প্রতি ফোঁটা রক্ত হয়েছে মহাকাব্য। কাব্যিক মাধুর্য ও উৎকর্ষতা দিয়ে ঈশ্বরকে ভালোবাসা ও সম্মানের বিরল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন খ্যাত রবি ঠাকুর। বিদ্রোহী কবি নজরুলের কলমে ও কণ্ঠের তীব্রতা এখনো অন্যায় ও জুলুমকারীর হৃদয় কেঁপে ওঠে। অতুল প্রসাদের বিখ্যাত কবিতার মধ্যে আমি একবার দেখি বার বার দেখি, দেখি বাঙলার মুখ। আধুনিক কবি শামসুর রাহমানের স্বাধীনতা তুমি কবিতার মধ্যে খুঁজে পাই স্বাধীনতার পরম স্বাদ।

তাই কাব্যকে শুধু আনুষ্ঠানিক উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিতে হবে শহর, গ্রাম-গঞ্জের জনপদে। আধুনিক, অনাধুনিক সকল স্তরের মানুষের কাছে কবিতাকে করে তুলতে হবে গ্রহণযোগ্য গুণে-মানে ছন্দে ও সুরে। স্কুল-কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ও মাঝেমধ্যে ছোট আকারে বইমেলার আয়োজন করেÑ যেখানে বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে দেশী-বিদেশী কবিতার বই, এতে কবিতার মর্ম জাগ্রত হবে চেতনা থেকে চেতনায়। কবিতা বেড়ে উঠবে আলো আর আশা নিয়ে মানুষের মননে।

শ্রেষ্ঠ কবিতার সমগ্র হয়ে ঘরের কোণে চৌকাঠের তলে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকার জন্য কবিতা নয়। আমি স্বপ্ন দেখি কবিতা হবে সমগ্র, হবে শ্রেষ্ঠ আর আলো ছড়াবে দিকে দিকে। কবিতাকে পরিচয় করিয়ে দেব পল্লীর জনপদে, কৃষক শ্রমিকের কণ্ঠে, সমাচার হবে। আত্মকেন্দ্রিক নীরবতা ভেঙে ছড়িয়ে পড়বে তারুণ্যের ভিড়ে, প্রেরণা হবে। রাজপথে যাবে জনতার মিছিলে ধ্বনি-প্রতিধ্বনিত হবে সেøাগানে-সেøাগানে। প্রেমাতুর হৃদয়ে প্রবাহিত হবে শান্ত স্রোতে। গুঁজে দেব মায়ের আঁচলে ভীরু লজ্জার ভিত কিছুটা হলেও যেন নড়েচড়ে বসে। এভাবেই কবিতার সার্বজনীন বিকাশ ঘটবে ৫৬ হাজার বর্গমাইলে। কিন্তু বাঙালী চেতনা বড়ই আজব, একটি শ্রেণী প্রাচ্য ভয়-ভীতিতে আক্রান্ত হয়ে নিমজ্জিত থাকে অন্ধকারের দোলাচলে। আর একটি শ্রেণী পাশ্চাত্যের আধুনিক উন্মুক্ত বিনোদনে নিজেদের চাঙ্গা রাখে এবং মুক্ত মনের মানুষ ভেবে প্রমোদে থাকে। আরও একটি শ্রেণী হুজুগে হয় মাতাল, বাহুল্য আবেগে মজে থেকে নিজেরা যা ভালো মনে করে তাই করে। শুধু একটি বিষয়ে তাদের চরম অনীহা পরিলক্ষিত হয় তা হলো শিক্ষামূলক বিনোদনে ও নিজস্ব সংস্কৃতিতে উদাসীনতা।

সাহিত্য বা কাব্যকে এড়িয়ে চলার মধ্যে দিয়ে প্রমাণ রেখে চলেছে মানসিক দৈন্যদশার। যাই হোক এসব, সেসব মানুষের কথা যারা কবিতাকে ভালোবাসে না। আমি যেভাবে কবিতার সঙ্গে একাকার হয়ে থাকি... মন লাগে না যখন বৈষয়িক দায়বদ্ধতায় কাব্যকে ভর করে চলে যাই অচেনা আদি পৃথিবীর প্রান্তে, দূর চির সবুজের জনশূন্য পথে, যেখানে জুড়ায় চঞ্চল হৃদয় আষাঢ় শ্রাবণে। জোড়াতালি দিয়ে প্রতিদিন জীবন সাজাই, রেখে যাবÑ জীবনের চিহ্ন এলোমেলো অপাঠ্য কবিতায়...

তারপর একদিন মিশে যাব শ্রাবণী সন্ধ্যায়।

দিপ্তী ইসলাম

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫

১৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: