কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দুদক ও গণমাধ্যম দুর্নীতিবাজদের দেখেও না দেখার ভান করে: ইনু

প্রকাশিত : ১৪ জুন ২০১৫, ০৩:৫২ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের গণমাধ্যম ও দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নিতীবাজদের দেখেও না দেখার ভান করে বলে অভিযোগ করেছেন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। একই সাথে দেশে বুদ্ধিভিত্তিক ও রাজনৈতিক দুর্নিতীও রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদেশে খুনি ও জঙ্গি নেত্রীকেও রাজনৈতিক মুখোশ পড়িয়ে নেতা বলা হচ্ছে।

রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ভবনে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যম পুরস্কার-২০১৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। এ অনুষ্ঠানে চারজন সংবাদকর্মীকে দুর্নীতি বিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্যে পুরষ্কার হিসাবে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। দুদক ও পিআইবি’র যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং জিআইজেড।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের আলোচ্য অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দুর্নিতী। পত্রিকার পাতায় প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্নিতী বিরোধী রিপোর্ট থাকছে। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বর্তমানে ছিটেফোটা হলেও বলার চেষ্টা করছে। দুর্নিতী বিরোধী কর্মকান্ডে প্রিন্ট মিডিয়ার ভূমিকা প্রশংসনীয়।

সমাজ ব্যবস্থায় বুদ্ধিভিত্তিক ও রাজনৈতিক দুর্নিতী রয়েছে উল্লেখ করে ইনু বলেন, আপনি বুদ্ধির চর্চা করেন, অথচ জেনেশুনে রাজাকারকে সমর্থন করেন, একজন খুনী ও জঙ্গিকে রাজনৈকিত মুখোশ পড়ান; তাদেরকে নেতা বলছেন। এটা বুদ্ধিভিত্তিক ও রাজনৈতিক দুর্নিতী। কেবলমাত্র প্রশাসনের দুর্নিতীর পেছনে ছুটবেন, রাজনৈতিক দুর্নিতী নিয়ে দেখেও না দেখার ভান করবেন-তা হতে পারে না।

তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন এবং মুখ দেখে, দল দেখে ছাড় দেওয়া এ দু’টি অভিযোগ দুদক ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে রয়েছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এর থেকে বের হয়ে আসতে হবে। নাহলে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, এ অভিযোগ শুধু দুদক বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধেই নয়। একইভাবে নজরদারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগকারী ব্যক্তিরাও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন অথবা মুখ দেখে, দল দেখে দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। এটা কাম্য হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, এমপিপুত্র প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছেন। এর ছাড় হতে পারে না। এর কোনো মাফ নেই। অপরাধী বা দুর্নীতিবাজদের মুখ দেখে, দল দেখে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এলে সেটা তাদের জন্য কলঙ্কজনক। অপরাধ বা দুর্নীতির সঙ্গে এমপিপুত্র বা মন্ত্রীপুত্র যেই জড়িয়ে পড়ুক না কেন তাকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

দুর্নিতী দমন কমিশনের কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সমাজের সকলের অংশগ্রহণে দুর্নীতি প্রতিরোধের মূল ভ’মিকা হচ্ছে গণমাধ্যমের। আমরা গণমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারি। দুর্নীতির উৎসমূল প্রতিরোধ করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ করতে হবে। দেশের স্কুলগুলো ২২ হাজার সততা সংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, দুর্নীতি প্রতিরোধে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে আমাদের এ পদক্ষেপ। বিশেষত তরুণ প্রজন্মকে দুর্নিতী মুক্ত রাখতে হবে।

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও দুর্নীতি দমন কমিশন-এর যৌথ উদ্যোগে প্রবর্তিত দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যম পুরষ্কার-২০১৫ পেয়েছেন চার সাংবাদিক। তারা হলেন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ক্যাটাগরিতে দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার মুজিব মাসুদ, আঞ্চলিক সংবাদপত্র ক্যাটাগরিতে যশোরের দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফয়সল ইসলাম, টেলিভিশন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন চ্যানেল ২৪-এর শামীমা সুলতানা ও টেলিভিশন ক্যামেরাপার্সন ক্যাটাগরিতে মাছরাঙা টেলিভিশনের কামরুজ্জামান ফিরোজ।

অনুষ্ঠানে দৈনিক সমকালের সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্ব করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মর্তুজা আহমেদ, পিআইবি’র মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

প্রকাশিত : ১৪ জুন ২০১৫, ০৩:৫২ পি. এম.

১৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: