কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মার্কিন সেনাবাহিনীতে নারী

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫

আমেরিকায় এমন আইন করা হয়েছে, যেখানে সশস্ত্র বাহিনীতে নারী-পুরুষকে সমান দৃষ্টিতে গণ্য করার ব্যবস্থা আছে। তবে এতে এই আইন বাস্তবে কতটা অর্থবহ তা পরিষ্কার নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীতে নারী সৈনিকের সংখ্যা পাশ্চাত্যের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি তো নয়ই, বরং কয়েকটি দেশের তুলনায় কম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক পর পরই প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানই প্রথম মহিলাদের সশস্ত্র বাহিনীর স্থায়ী সদস্য হওয়ার সুযোগ দিয়ে আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন। ২০১১ সাল নাগাদ মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর এ্যাকটিভ ডিউটিতে নিয়োজিত নারী সৈনিকের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৩ হাজার অর্থাৎ মোট সৈন্যের প্রায় ১৪.৫ শতাংশ। ২০২৫ সাল নাগাদ এই সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশে দাঁড়াবে। তার মানে সামরিক বাহিনীর প্রতি চারজন সদস্যের একজন হবে মহিলা। সেটা তো পরের কথা। এ মুহূর্তে আর্মিতে নারী সৈনিকের সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৭ম। সর্বপ্রথমে আছে ইসরাইল। তারপর যথাক্রমে ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড ও কানাডা।

তবে নতুন আইন প্রণয়ন, অভিভাবকদের সমর্থন এবং যৌন হয়রানি ও নিগ্রহ হ্রাসের ফলে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীতে নারীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটা আসে ২০১৩ সালে যখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিও প্যানেট্রা যুদ্ধে নারী সৈনিকের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন। এর ফলে রণাঙ্গনে নারীদের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার পদ উন্মুক্ত হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীতে আজ এমন চিন্তাধারা বিদ্যমান, যে কোন নারী সৈনিক যদি শারীরিক দিক দিয়ে প্রয়োজনীয় মানের পরিচয় দিতে পারে, তাহলে লড়াইয়ের কাজে তাঁকে নিয়োজিত করতে না পারার কোন কারণ থাকতে পারে না।

তথাপি মেয়েদের সেনাবাহিনীতে বিশেষ করে কঠোর ধরণের পদাতিক বাহিনীতে ঠাঁই পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। যেমন গত মাসে প্রথমবারের মতো এলিট রেঞ্জার স্কুলে ভর্তির জন্য ৩৮১ জন পুরুষের সঙ্গে ১৯ জন মহিলা পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রথমদিন প্রার্থীদের ৪০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৫ মাইল দৌড়াতে হয়েছে। তার পরও ৪৯টি পুশ-আপ, ৫৯টি সিট-আপ ও ৬টি চিন-আপ সম্পন্ন করতে হয়েছে। প্রথম সপ্তাহের পর ৮ জন মহিলা ও ২৫৫ জন পুরুষ ১২ মাইলের মার্চ, রাত্রিকালীন কমপ্যাস মিশন এবং বড় ধরনের অবস্টেকল কোর্স সম্পন্ন করে টিকে থাকতে পেরেছে। কিন্তু এর পরই মহিলা প্রার্থীরা পিছিয়ে পড়ে। ৮ মে জানানো হয় যে ৮ জন মহিলার সবাইকে আবার আগের পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণ হতে হবে। তার পরই তারা জর্জিয়ার পাহাড়ী অঞ্চলে পরবর্তী পর্যায়ের ট্রেনিংয়ে যেতে পারবে। সেই ট্রেনিংয়ে উত্তীর্ণ হলে আরও কঠিন পরীক্ষা তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তাহলে রাতে তিন ঘণ্টার নিন্দ্রা, দিনে দু’বেলা সামান্য কিছু আহার এবং অতি কঠোর ও ক্লেশকর টহল। আগের বারে প্রার্থীরা তাদের তল্পিতল্পা হাল্কা করার জন্য টুথব্রাশ ভেঙ্গে নেয়ার মতো কাজও করেছিল। এই কঠিন পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণ হতে পারলেই যে সেই মহিলার বেঞ্জার রেজিমেন্টে ঠাঁই হবে এমন কথা নেই। তাকে অন্য যে কোন কমব্যাট ইউনিটে দেয়া হতে পারে। পদাতিক বাহিনীর ট্রেনিং পাওয়া মানে যে কোন যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। এটা ঠিক যে মেয়েরা পুরুষের তুলনায় উচ্চতায় খাটো এবং তাদের শরীরের উর্ধাংশ দুর্বল। তথাপি কার্যকর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এই দুর্বলতা বা ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা যায় বলে অনেকে মনে করেন। তাদের মতে, যুদ্ধ করার তীব্র স্পৃহা আছে কিনা সেটাই সবচেয়ে বড় কথা।

তাই বলে সমালোচকদের অভাব নেই। তারা বলেন, মেয়েরা পুরুষদের মতো শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তপোক্ত নয়। তাই রণাঙ্গন তাদের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু কথাটা যে ঠিক নয় নিম্নোক্ত তথ্যই তার প্রমাণ। গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ২ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মার্কিন নারী সৈনিক ইরাক, আফগানিস্তান ও অন্যান্য বিদেশী ঘাঁটিতে গিয়ে সেসব দেশে যুদ্ধপ্রচেষ্টায় সহায়তা করেছে। এসব দেশে সংঘর্ষে তাদের ১৫২ জন নিহত এবং ৮শ’রও বেশি আহত হয়েছে। কাজেই সরকারী যুদ্ধে অংশ নেয়ার মতো শারীরিক ও মানবিক সক্ষমতা তারা ইতোমধ্যে করায়ত্ত করেছে। সামরিক কর্মকা- ও রণকৌশল পরিচালনায় নারীরা যে পুরুষের চেয়ে কিছুমাত্র কম নয় তার প্রমাণ এ্যান, ই, ডানউডি। মার্কিন সেনাবাহিনীতে তিনিই প্রথম চার তারকা জেনরেল হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকনোমিস্ট

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫

১০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: