কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আইএস জঙ্গী সমন্বয়ক গালিব বারিধারা থেকে আটক

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫
আইএস জঙ্গী সমন্বয়ক গালিব বারিধারা থেকে আটক
  • বিশিষ্টজন হত্যা ও কেপিআইয়ে নাশকতার ষড়যন্ত্র করছিল

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বাংলাদেশ শাখা সমন্বয়ক বাংলাদেশে নতুন জঙ্গী সংগঠন জুনুদ আল তাওহিদ আল খলিফা প্রধান এবং দেশের বিশিষ্টজন হত্যার পরিকল্পনাকারী জঙ্গী আবদুল্লাহ আল গালিবকে শনিবার রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতির প্রধান হোতা জঙ্গী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষপর্যায়ের নেতা মাহফুজুল ইসলাম শামীম ওরফে সুমনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দুই জঙ্গী নেতা গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, আবদুল্লাহ আল গালিব নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে নতুন জঙ্গী সংগঠন জুনুদ আল তাওহিদ আল খলিফার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে গোপন তৎপরতা শুরু করেছেন। গ্রেফতারকৃত ওই জঙ্গী নেতা অবসরপ্রাপ্ত এক মেজরের ছেলে। আইএসের আদলে নতুন জঙ্গী সংগঠন খুলে সদস্য সংগ্রহ ও বাংলাদেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছিলেন বলে গোয়েন্দাদের দাবি। আবদুল্লাহ আল গালিব নামের ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণকে শনিবার রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। রবিবার তাকে হাজির করা হয় গণমাধ্যমের সামনে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম জানান, গালিব নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সমন্বয়ক। আগে তিনি হিযবুত তাহরীর ও জেএমবির সঙ্গেও ছিলেন। সম্প্রতি সে জুনুদ আল তাওহিদ ও আল খিলাফা নামে সশস্ত্র জিহাদী সংগঠন খুলে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেন। তার লক্ষ্য, আইএসের আদলে বাংলাদেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা। ১০ থেকে ১৫ সদস্য সংগ্রহ করে সে প্রশিক্ষণ দেয়াও শুরু করেছিল। গালিবের বাসা থেকে উদ্ধার করা জঙ্গী প্রশিক্ষণের একটি ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে দেখানো হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্পোর্টস ট্রাউজার ও কালো গেঞ্জি পরা নয় তরুণকে মুখ ঢাকা, যাদের হাতে পিস্তল বা রিভলবারের মতো দেখতে ছোট অস্ত্র আছে। তাদের পেছনে কালো কাপড়ে সাদা হরফে কলেমা এবং বন্দুকের ছবি রয়েছে। দেখে মনে হয়, কোন বাড়ির উঠানে ওই ছবি তোলা হয়েছে। এরকম ভিডিও জুনুদ আল তাওহিদ ও আল খিলাফার ওয়েবসাইট আত তাহরীদ মিডিয়াতেও রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, গালিবের বাবা মোঃ আবদুল্লাহ অবসরপ্রাপ্ত মেজর। বাড়ি যশোরের লেবুপাড়ায়। ঢাকার একটি ইংরেজী মাধ্যম স্কুল থেকে ‘এ’ লেভেল, ‘ও’ লেভেল শেষ করে আতরের ব্যবসা শুরু করে গালিব। বারিধারায় বাবার বাড়িতেই তিনি থাকতেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তা শেখ নাজমুল আলম জানান, গালিব আইএসের হয়ে যুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্য একাধিকবার তুরস্কে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গালিব বলেছেন, তিনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আইএসের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মী সংগ্রহ করতেন এবং তাদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ নাজমুল আলম বলেন, শনিবার রাতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ১০-১২ সদস্যের সঙ্গে বসে আইএসের জন্য কর্মী সংগ্রহ ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করে গালিব। এ সময় সেখানে অভিযান চালিয়ে গালিবকে গ্রেফতার করা হয়। তবে বাকিদের ধরা যায়নি। এক প্রশ্নের জবাবে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে সব বিবেচনা করে মনে হচ্ছে, ভিডিওর ওই প্রশিক্ষণ বাংলাদেশেই হচ্ছে। তবে তাদের হাতের অস্ত্র আসল না নকল তা যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে। অস্ত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশে খেলাফত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছিল বলেও গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা। আল কায়েদার বিভিন্ন ভিডিও বার্তা আরবী থেকে বাংলায় অনুবাদ করতেন গালিব। এ রকম প্রায় ৫০টা সিডি তার বাসায় পাওয়া গেছে। ওই বাসা থেকে দুটি পোর্টেবল হার্ডডিস্ক, চারটি হার্ডডিস্ক, কম্পিউটার সিপিইউ, সিডি, ৪৩ জিহাদী বই, তিনটি ‘মইনুল ইসলামের মাসিক পত্রিকা’ এবং ‘মেড ইন পাকিস্তান’ লেখা একটি টুপি পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গালিব জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি ও স্থাপনা তাদের টার্গেটে ছিল। পুলিশ এসব ব্যক্তি ও স্থাপনার নাম জানতে কাজ করছে। গালিবের বিরুদ্ধে বনানী থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে বলে জানান ডিবির উপ-কমিশনার নাজমুল আলম।

আশুলিয়া ব্যাংক ডাকাতির হোতা গ্রেফতার ॥ আশুলিয়া ব্যাংক ডাকাতির কমান্ডিং কর্মকর্তা ও প্রধান আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষপর্যায়ের নেতা মাহফুজুল ইসলাম শামীম ওরফে সুমনকেও গ্রেফতারের খবরটি রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, পরে সংবাদ সম্মেলন করে সুমনের গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫

০১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: