কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে রাখুন

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫
  • অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা
  • ফজলুল বারী, অস্ট্রেলিয়া থেকে

ফেসবুকের ইনবক্স ভরে যায় অনেক আকুতিতে! অনেকেই লিখছেন, ভাই আমারে অস্ট্রেলিয়া নিয়া যান। ওখানে গিয়া কাম করুম! অনেকে জানতে চাইছেন, অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার খরচ কত? যারা এমন বার্তা পাঠাচ্ছেন, তাদের প্রায় সবাই বয়সে তরুণ। সৃষ্টি সুখের উল্লাসী নতুন প্রজন্ম। দেশ তাদের ভরসা দিতে পারছে না! এ বড় কষ্টের। এ ব্যর্থতা আমাদের সবার। কিন্তু আমার সাম্প্রতিক কোন পোস্ট কি তাদের ভুল বার্তা দিয়েছে? নতুবা এমন আকুতির ঝড় বইবে কেন আমার ইনবক্স লক্ষ্য করে? তাদের উদ্দেশে আবারও লিখছি।

তরুণ যারা অস্ট্রেলিয়া আসতে চান, পড়াশোনার উদ্দেশ্য ছাড়া এখানে আসার কোন সুযোগ নেই। এর জন্য প্রথমে থাকতে হবে ব্যক্তিগত মেধা। এরপর অভিভাবকের আর্থিক সচ্ছলতা। কারণ এরা যে তাদের দেশে বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের ওয়েলকাম করে, এটা তাদের ব্যবসা। এডুকেশন এদের বড় একটি ইন্ডাস্ট্রি। এখানে কোন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নেই। ঢাকায় মাঝেমধ্যে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ শিক্ষামেলার আয়োজন করে। এরা জানে বাংলাদেশের টাকাওয়ালাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে বিদেশে যায়। তারা যাতে তাদের দেশে আসে, ডলারগুলো যাতে আসে তাদের এডুকেশন ইন্ডাস্ট্রিতে, এ লক্ষ্যেই তারা আয়োজন করে এসব শিক্ষামেলার। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক স্টুডেন্ট যেহেতু অনলাইনে গবেষণায় অভ্যস্ত নয়, এসব শিক্ষামেলা তাদের বিভ্রান্তও করছে! বড় নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় দেখে অনেকে এমন সব সাবজেক্টে পড়তে আসছেন, যেগুলো অস্ট্রেলিয়ার ডিমান্ড লিস্টে নেই। ওগুলো পড়ে এ দেশে অভিবাসনের জন্যও আবেদন করা যাবে না। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব সাবজেক্টের টিউশন ফি প্রতি সেমিস্টারে ১৩ হাজার ডলারের বেশি! কাজ করে ১৩ হাজার ডলার যোগাড় করা অনেক কঠিন। টিউশন ফি যদি সেমিস্টারে ৬-৭ হাজার ডলারের মধ্যে হয়, তাহলে তা কাজ করে জোগাড় করা সহজ। অস্ট্রেলিয়ার ডিমান্ড লিস্ট দেখে কম টিউশন ফির প্রতিষ্ঠানে পড়তে আসার চেষ্টা করুন। এ দেশে অভিবাসন হয়ে যাওয়ার পর আরও যত খুশি পড়ুন। কেউ বাধা দেবে না। অস্ট্রেলিয়ার ডিমান্ড লিস্ট দেখতে-জানতে ঢু মারুন এই ওয়েব লিঙ্কে যঃঃঢ়://িি.িরসসর.মড়া.ধঁ/ডড়ৎশ/চধমবং/ংশরষষবফ-ড়পপঁঢ়ধঃরড়হং-ষরংঃং/ংড়ষ.ধংঢ়ী। আমি দেশের মেধাবী ছেলেমেয়েদের অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আসতে উৎসাহ দেই। কারণ এখানে এখনও ছাত্রছাত্রীদের কাজ পাওয়ার সুযোগ তুলনামূলক অনেক দেশের চেয়ে বেশি এবং এ দেশে এখনও পড়াশোনা শেষে অভিবাসনের আবেদন করার সুযোগ আছে। অনেকে বিবিএ-এমবিএ, মাস্টার্স এমন হিল্লীদিল্লী নানা ডিগ্রীর উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া আসতে আগ্রহী। তাদের বলছি, এভাবে অস্ট্রেলিয়া আসার চেষ্টা করবেন না। এ দেশে আসতে চাইলে এদের অগ্রাধিকার সাবজেক্ট দেখবেন। যে সব বিষয়ে পড়লে এ দেশে অভিবাসনের আবেদন করা যাবে। এই সাবজেক্ট তালিকাটি এ দেশের এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে পাবেন। এই তালিকাটি আবার স্থির নয়। এদের চাহিদা অনুসারে সময়ে সময়ে তালিকা বদলায়। মনে রাখবেন এখানে পড়াশোনা করতে এসে কাজ করবেন ঠিক, কিন্তু পড়াশোনা, ক্লাসে উপস্থিতি, পরীক্ষায় পাস তথা একাডেমিক সব এ্যাক্টিভিটিজ ঠিক রাখতে হবে। নতুবা আপনার ভিসা বাতিল হয়ে যাবে।

এখানে পড়াশোনার অগ্রাধিকার যোগ্যতা হলো আইএলটিএসে ভাল স্কোর। এর সঙ্গে শুদ্ধ উচ্চারণে ইংরেজী বলা রপ্ত করবেন ভালভাবে। কারণ শুদ্ধ ইংরেজী বলতে পারাটা এ দেশের কাজের সবচেয়ে বড় স্কিল। এ দেশে যেহেতু বাংলাদেশের শিক্ষা প্রায় মূল্যহীন, তাই দেশে বেশি দেরি করার দরকার নেই। এইচএসসির পরই চেষ্টা শুরু করা ভাল। কোর্স ভেদে এ দেশে আসতে অভিভাবক অথবা স্পন্সরের ব্যাংকে ৫০-৬০ লাখ টাকা দেখাতে হয়। বাবার টাকা না থাক, এমন একজন স্পন্সর ম্যানেজ করুন যিনি আপনার জন্য ব্যাংকে টাকা দেখিয়ে বলবেন, আপনার খরচ তিনি চালাবেন। তাকে নগদ কোন টাকা দিতে হবে না। ঢাকার অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন বড় বড় ল’ ফার্ম দিয়ে তদন্ত করিয়ে নিশ্চিত হবে টাকাগুলো বৈধ আয় কিনা, ট্যাক্স পেইড কিনা।

আইএলটিএস স্কোরসহ পছন্দের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অনলাইনে অথবা এজেন্টের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অফার লেটার যোগাড় করতে হবে। এরপর ঢাকায় থাকতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে একটি সেমিস্টারের টিউশন ফি জমা দিয়ে এরপর ভিসার জন্য যাবেন হাইকমিশনে। মনে রাখবেন, এ দেশে সবকিছু হবে আইনানুগ। কোথাও কোন তদবিরের সুযোগ নেই।

আমি তাদেরই অস্ট্রেলিয়া আসার চেষ্টা করতে বলি, যাদের দেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার আর্থিক সামর্থ্য আছে। দেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব স্টুডেন্টই অভিভাবকের টাকায় পড়েন। আর এ দেশে আসা প্রায় সব স্টুডেন্ট পড়েন নিজের টাকায়। দেশে নানা কারণে যথাসময়ে কোর্স শেষের নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু এখানে নিশ্চয়তা শতভাগ। দেশে এখন মেয়েদের পদে পদে নানা ঝুঁকি। সে তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় আপনার মেয়ে থাকবে অনেক নিরাপদে। এ দেশে মেয়েদের মেয়ে না, মানুষ হিসেবে দেখে সমাজ এবং রাষ্ট্র। এখানে যাদের পরিচিত কেউ নেই, তাদের জন্য আমার মতো ভাইরা আছেন। কোন বাংলাদেশী পরিবারের সঙ্গে আপনার মেয়েকে আমরা থাকার ব্যবস্থা করে দিতে পারব।

অভিভাবক বা স্পন্সরের ব্যাংকে ৫০-৬০ লাখ টাকা দেখালেও এ দেশে আসা প্রায় সব স্টুডেন্ট একটা টিউশন ফি, টিকেট, হাতে কিছু নগদ টাকা, এভাবে ১০-১২ লাখ টাকা খরচ করে আসেন। বাকি সব টাকা জোগাড় করেন কাজ করে। এর জন্য তাদের যে কষ্ট করতে হয়, তা দেশে থাকতে তারা কল্পনায়ও ভাবতে পারবেন না। কাজ মানে দোকান কর্মচারী, রেস্টুরেন্টের কিচেন হ্যান্ড জব, ক্লিনিং এসব। এখানে এসব কাজ করতে আপনার খারাপ লাগবে না। কারণ সবাই এখানে কাজ করেন এবং প্রায় সব ছাত্রই এখানে একাধিক কাজ করেন। একটা কাজের টাকায় নিজের থাকা-খাওয়ার খরচ যোগান। আরেক জবের টাকা জমিয়ে টিউশন ফি দেন। এভাবে কিন্তু স্টুডেন্টরা ঘুমানোর জন্য ৩-৪ ঘণ্টার বেশি সময় পান না। এসবের সঙ্গে নিজেদের খাবার রান্নাবান্না করতে হয়। স্টুডেন্টরা তাদের কাজে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৭ ডলার পর্যন্ত পান। আমাদের দেশের হাজার হাজার স্টুডেন্ট যারা দেশে কোন দিন কোন কাজ করেননি, কিন্তু এ দেশে এসে সব কাজ করছেন, পড়াশোনা ঠিক রাখছেন, এসব করে আবার নিয়মিত বাড়িতেও টাকা পাঠাচ্ছেন। তাদের দেখলে ভালবাসায় শ্রদ্ধায় মন ভরে যাবে। বাংলাদেশ থেকে আসা প্রায় সব স্টুডেন্টই এ দেশে স্মার্ট, আইনানুগ হিসেবে সমাদৃত। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সব তথ্য পাবেন এই ওয়েবসাইটেww w.studyinaustralia.gov.au

লেখক : প্রবাসী সাংবাদিক

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫

৩১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: