কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রযুক্তি পরিবর্তন করেছে শিক্ষার

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫
  • রেজা নওফল হায়দার

ছোট নাফিস তার ছোট্ট ট্যাবটি খুলেই কমিউনিকেশন মডিউল দিয়ে টিচারের সাথে কথা বলতে শুরু করল। অপরপ্রান্ত থেকে টিচার বলর তোমাকে এখনই টেক্সট করছি। ঘটনাটি ভবিষ্যতের কিন্তু সেটাই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রযুক্তির সহয়তায় আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবনে যে কোন সময়ে পরিবর্তন এনে দিতে পারে। সময়কালে প্রাপ্ত তথ্যকে সংগ্রহ করে রাখার জন্য টেকনোলজি বা প্রযুক্তির সহায়তা নিতে লাগল। বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্যকে ধরে রাখার জন্য প্রযুক্তির সহায়তায় নানান ধরনের আবিষ্কার হলো। তথ্যকে প্রক্রিয়াজাত করা, সংস্কার করা, সংরক্ষণ করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে লাগল। এই সময়কালকে আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তির যুগ বলে ধরে নেয়া যেতে পারে। বর্তমান সময়ে আইটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কমিউনিকেশন অর্থাৎ যোগাযোগ। আইটির সঙ্গে কমিউনিকেশন যুক্ত হয়ে এমন এক প্রত্যয় গড়ে তুলল যা সকলের সামনে খুলে দিল এক নতুন সম্ভাবনার। তথ্যের সহজপ্রাপ্যতা, অবাধ প্রবেশাধিকার ইত্যাদি প্রত্যয় নিয়ে গড়ে উঠল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। সাধারণত প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্যের আদান-প্রদান বা যোগাযোগ করাকেই বলা হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আর এ কাজের জন্য নিত্যনতুন উদ্ভাবন করা হচ্ছে নানান ধরনের প্রযুক্তি পণ্য। এসব তথ্যকে নিয়ে যাচ্ছে মানুষের হাতের নাগালে, ফলে যোগাযোগ হয়ে যাচ্ছে সহজ থেকে সহজতর। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে আমাদের শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত করা হচ্ছে তখন আমাদের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষা এবং শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।

অনেকেই এই বিষয় দুটোকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু বিষয় দুটো সম্পূর্ণ পৃথক। প্রথমটি একটি বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেমন পদার্থ বিজ্ঞান, সাধারণ গণিত ইত্যাদি। দ্বিতীয়টি পাঠদানের সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করা। আমাদের বর্তমান শিক্ষানীতিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়ে আসা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার ষষ্ঠ শ্রেণীতে বিষয় হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষা নামে একটি নতুন বিষয় যুক্ত করেছে। এখন দেখা যাক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি শিক্ষা এবং শিক্ষায় আইসিটির মধ্যে পার্থক্যটা কী? সহজ কথায় বলতে গেলে, যখন আইসিটি নিয়ে আলোচনা করা হবে অর্থাৎ তথ্য কী, যোগাযোগ কিভাবে করতে হয়, কোন্ কোন্ যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে যোগাযোগ করা হয়, প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার তবে তা হবে আইসিটি শিক্ষা। আবার শিক্ষায় আইসিটি বলতে বোঝায় আইসিটি শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কোন কিছু শেখানো, যেমনÑ কোন কার্টুন ছবি দেখিয়ে কোন কিছু সম্পর্কে মেসেজ দেয়া। বর্তমানে আমরা শিক্ষায় আইসিটির আরও কিছু ব্যবহার দেখতে পাই, যেমনÑ শিক্ষামূলক বিভিন্ন ওয়েবসাইট, স্মার্ট ক্লাসরুম, ই-লাইব্রেরী, মোবাইলের মাধ্যমে ইংরেজী শেখানো, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ক্লাস নেয়া, স্টুডেন্ট ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি। এই দুটো দিকের পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, আইসিটি শিক্ষা প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য আর শিক্ষায় আইসিটি ব্যবহার করবে শিক্ষক, শিক্ষাসম্পর্কিত ব্যক্তিবর্গ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে আইসিটি শিক্ষার কারিকুলাম কী হবে, কোন্ শ্রেণীতে কিভাবে কী শেখানো হবে ইত্যাদি। এ প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে, একটি শ্রেণীর কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয় সেই শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের শেখার সামর্থ্য, বয়স, মেধা ইত্যাদি দিক বিবেচনা করে। সাধারণত আমাদের দেশে শিক্ষার কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয় স্পাইরাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ কোন্ বিষয় শেখাতে তা পর্যায়ক্রমে সকল শ্রেণীতেই ধাপে ধাপে শেখানো হয়। যেমনÑ পানি সম্পর্কে শেখাতে তৃতীয় শ্রেণীতে পানি কী তা শেখানো হয়। চতুর্থ শ্রেণীতে পানির উৎস বা পানি কোথায় কোথায় পাওয়া যায় তা শেখানো হয়। পঞ্চম শ্রেণীতে পানির উপাদান কী কী তা শেখানো হয়। এভাবে ধাপে ধাপে গভীর থেকে গভীরের দিকে যাওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের বয়সের কথা ও তাদের ধারণ ক্ষমতার কথা মাথায় রাখা যায়।

আইসিটি শিক্ষার ক্ষেত্রেও আমরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি। এক্ষেত্রে ষষ্ঠ শ্রেণীতে আইসিটি কী, এর ধারণা, কম্পিউটার পরিচিতি ইত্যাদি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা আমরা দিতে পারি। ধাপে ধাপে আমরা আইসিটি শিক্ষাকে আইটির দিকে নিয়ে যেতে পারি। যেমনটা অন্যান্য বিষয়ে হয়ে থাকে। যেমনÑ তৃতীয় শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞানের একটি অধ্যায় পানি পরবর্তী শ্রেণীতে পড়ানো পানির উপাদান এক সময়ে একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীতে রসায়নের অংশ হিসেবে পড়ানো হয়।

তেমনি আমরা মাধ্যমিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মৌলিক শিক্ষা দিতে পারি। যা পরবর্তীতে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে কম্পিউটার শিক্ষায় রূপ নিতে পারে। এতে বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দিকে পথ চলতে সহায়ক হতে পারে। এতে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীরা তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে মৌলিক শিক্ষা পাবে। এছাড়া কম্পিউটারে হাতেখড়ি পাবে ও কম্পিউটারবিষয়ক সাক্ষরজ্ঞান হতে পারবে।

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫

২৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: