মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিবি কিং

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫
  • বিদায় ব্লুজ লিজেন্ড

ব্লুজ লিজেন্ড বিবি কিং এখন কেবল স্মৃতি। বিখ্যাত এ গিটারিস্ট ও গায়ক ৮৯ বছর বয়সে গত ১৪ মে লাস ভেগাসের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ঘুমন্ত অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে জন্ম নেয়া বিবি চল্লিশ শতকে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন ও ব্লুজ মিউজিককে শ্রোতা মহলে জনপ্রিয় করে তোলেন। বিবি কিং ছিলেন বর্তমান প্রজন্মের বহু গিটারিস্টের অনুপ্রেরণা। তাঁর গিটার বাজনা, স্টাইল ও গায়কী এখন ব্লুজ ঘরনার রীতিতে পরিণত হয়েছে। ব্লুজ ও বিবি কিং তাই সমার্থক শব্দ। বিবি কিংয়ের গান না শুনে কেউ ব্লুজ মিউজিক সম্পর্কে ধারণা রাখতে পারে না। বিবি কিং ছিলেন সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গিটারিস্টের তালিকায় তৃতীয়। রক, মেটাল, ব্লুজ জগতের বহু গিটারিস্টের ভিড়ে আজও বিবি পরিচিত ‘কিং’ নামেই।

বিবির মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবে পশ্চিমা সঙ্গীত জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম : টুইটার, ফেসবুক কিংবা ইনস্ট্রাগ্রামে প্রত্যেকেই বিবি কিংকে শ্রদ্ধা ও স্মরণ রেখে নিজেদের শোকবার্তা প্রকাশ করেছেন।

এরিক ক্ল্যাপটন, সø্যাশ, লেনি ক্রেভিটজ, রিচি সামবোরা, রিঙ্গো স্টার, জন মেয়ের সকলেই শোকাহত।

বিবির মৃত্যুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত শুক্রবার বলেন, ‘ব্লুজ মিউজিক তাঁর রাজাকে হারিয়েছে এবং আমেরিকা হারিয়েছে তাঁর একজন লিজেন্ডকে।’ ওবামা আরও বলেন, ‘বিবি কিং হলো মার্কিন মিউজিকের দূত, যিনি সঙ্গীতকে এক সুতায় বাঁধার সাহস দেখিয়েছেন। বিবি কিং একজন পরিশ্রমী সুরকার এবং কোন সুরকার তাঁর মতো এত প্রভাব ও অনুপ্রেরণা যোগাতে পারেননি। বিবি কিং ব্লুজ মিউজিকের গল্প দুনিয়াব্যাপী প্রসিদ্ধ করেছেন।’

বিবি কিং একমাত্র সুরকার, যিনি সর্বোচ্চ ১৫ বার গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ড জিতেন। রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ একশ’ গিটারিস্টে তাঁর স্থান দেন তৃতীয়। কেবল মাত্র হিমি হেনরিক্স ও ডোনি অলমেনের পরেই তাঁর স্থান। তাঁর অসাধারণ সব হিট সিঙ্গেল আজও দর্শকমনে স্থান করে আছে। বিবি কিং ১৯২৫ সালে মিসিসিপিতে জন্ম নেন। দরিদ্র কৃষক পরিবারের এ সদস্য শৈশব থেকে খামার ও পশুপালন করতেন। পারিবারিক দায়িত্বের পর প্রায় তিন মাইল দূরের এক স্কুলে পড়তেন এ ব্লুজ লিজেন্ড। খুব অল্প বয়সে গিটার হাতে তোলেন এ সুরকার। স্থানীয় চার্চের একজন সুরকার প্রথম তাঁকে গিটারের প্রাথমিক ধারণা দিয়েছিলেন। পরে বিবি নিজ তাগিদেই গিটারের আদ্যপান্ত জানা শুরু করেন। মাসিক ১৫ ডলার বেতনে একটি রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেন বিবি কিং। সেই বেতনের টাকা জমিয়ে পড়ে গিটার কেনেন। তাঁর একজন কাজিন তখন একটি ব্লুজ ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন। সেই ভাইয়ের সুবাদেই বিবি কিং ব্লুজ মিউজিকের সঙ্গে পরিচিত হন। পঞ্চাশের দশকের শুরুতে বিবি কিং ‘বিলি স্ট্রিট ব্লুজ বয়’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। পরে ব্লুজ বয় নামটি আরও সংক্ষিপ্ত আকারে বিবিতে রূপান্তরিত হয়।

১৯৫৪ সালে তাঁর প্রকাশিত ‘৩ ড় পষড়পশ ইষঁবং’-থ্রি ও ক্লক ব্লুজ এ্যালবামটি বিলবোর্ড চার্টে স্থান পায়। ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ‘থ্রিল ইজ গন’ এ্যালবামের জন্য গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ড জেতেন এ লিজেন্ড শিল্পী।

জীবনের চলার পথে বহু সুরকারের সঙ্গে বাজিয়েছেন বিবি কিং। বিখ্যাত ব্লুজ লিজেন্ড এরিক ক্লেপটনের সঙ্গে তাঁর একটি এ্যালবামও রয়েছে। এছাড়া বহু কনসার্টে ও ট্যুরে সঙ্গী হয়েছেন সমসাময়িক অনেক মিউজিশিয়ানের।

বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া বিবি কিং বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থতাবোধ করছিলেন। ডায়াবেটিসজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে কিছুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই হাসপাতালেই গত বৃহস্পতিবার ঘুমন্ত অবস্থায় চিরনিন্দ্রায় শায়িত হন এ গিটারিস্ট। তাঁর মৃত্যুপরবর্তী সময়ে অনেকেই হয়ত তাঁকে স্মরণ করবেন কনসার্টে কিংবা গানে। কিন্তু ব্লুজ পড়ে থাকবে মুকুটহীন এক সাম্রাজ্যে। এ মুকুট কিংবা উপাধী হয়ত কেউ ছুঁতে পারবেন না। কিন্তু তাঁর স্মৃতি ধরে রাখবেন ব্লুজ মিউজিকের বাজনা কিংবা স্টাইলে।

ডিপ্রজন্ম ডেস্ক

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫

১৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: