মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তাহের ও ননীর নেতৃত্বে রাজাকাররা বাউশি বাজার লুট করে

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫
  • যুদ্ধাপরাধী বিচার
  • গিয়াসউদ্দিনের জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেত্রকোনার দুই রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ষষ্ঠ সাক্ষী গিয়াস উদ্দিন জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দীতে সাক্ষী বলেছেন, রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর নেতৃত্বে রাজাকাররা হিন্দু অধ্যুষিত বাউশি বাজারে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে সেখান থেকে ফজলুর রহমানকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সপ্তম সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য ৩১ মে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। সাক্ষ্য গ্রহণে সাক্ষীকে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি। সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেছেন, আমার নাম গিয়াস উদ্দিন। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫৯ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম-পূর্ব দত্তখিনা, থানা-বারহাট্টা, জেলা-নেত্রকোনা। আমি একজন পল্লী চিকিৎসক। ১৯৭১ সালে আমি নেত্রকোনা চন্দ্রনাথ স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। আমি নেত্রকোনা শহরের সাতপাই এলাকার আমাদের নিজেদের বাসায় অন্যান্য ভাইদের সঙ্গে বসবাস করতাম। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে পাকিস্তানী আর্মিরা নেত্রকোনা শহরে এসে ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় ক্যাম্প স্থাপন করে বিভিন্নভাবে ত্রাস সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায় আমরা নেত্রকোনা শহর ছেড়ে আমাদের গ্রামের বাড়িতে চলে যাই।

সাক্ষী জবানবন্দীতে বলেন, পরবর্তীতে জানতে পারি যে, নেজামী ইসলামী পার্টির সভাপতি মঞ্জুরুল হক নেত্রকোনা জেলা শান্তি কমিটি গঠন করে তিনি এ কমিটির সভাপতি হন। এর পরে নেত্রকোনায় রাজাকার বাহিনী গঠন করে তার বড় ছেলে আসামি ওবায়দুল হক তাহেরকে রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার নিযুক্ত করেন। আসামি আতাউর রহমান ননী ঐ রাজাকার বাহিনীর একজন সদস্য হন।

সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে ঐ রাজকার বািহনীর সদস্যরা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র বাউশি বাজারে আসে। ঐ বাজারে সরিষা, ধান পাটের গুদামঘর ছিল। রাজাকার ও পাকিস্তানী আর্মিরা ঐ গুদাম ঘরগুলো লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করে।

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫

১৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: